https://www.a1news24.com
১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৪৯

হামলাকারীদের থেকে তারেক রায়হান ও তার পরিবার যেভাবে প্রাণে রক্ষা পায়

ফিরে দেখা ৫ আগস্ট ২০২৪

 

স্টাফ রিপোর্টার: সেদিন ছিল ৫ আগস্ট ২০২৪ , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবন থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি , সরকারি অনেক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে বিপরীত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ও জঙ্গি ইসলামী সন্ত্রাসীরা।

শুধুমাত্র ঐ সমস্ত সরকারি দায়িত্ব প্রাপ্ত লোকদের বাসায় আক্রমণ হয়েছিল যারা সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতা ছিল এবং একই সাথে সরকারি দায়িত্বে ও ছিল। এছাড়া সাধারণ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতার বাড়িতে আক্রমণ করে।

খোন্দকার তারেক রায়হান যে বাসায় থাকতেন সেই বাসা ছিল Btcl Officers Quarter, Azimpur, Beside New market, Dhaka.যা বিশাল বাউন্ডারিওয়াল ওয়ালা বড় একটি বিল্ডিং, সেখানে তিনটি বিল্ডিং ছিল। সেখানে প্রায় ২৪ পরিবার থাকতো যারা প্রজাতন্ত্রের সব সময় সরকারি কর্মকর্তা।

পক্ষান্তরে সে শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ছিলেন। সে কারণে ঐ কমপ্লেক্সের ভিতরে অন্য বাসা আক্রমণ করে নাই, শুধুমাত্র তার বাসায় আক্রমণ করেছে।

তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যেভাবে জানতেন সে যেই বাসায় থাকতেন সেই বাসার ঠিকানা :
সে সরকারি বাসায় ছিলেন তার নিজের দল আওয়ামী লীগ এবং শত্রুপক্ষ বিএনপি, জামাত ইসলাম এবং এনসিপি সবাই জানতেন। কারণ সে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। কে কোন লোকেশনে থাকতেন বাংলাদেশের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাই তারা তা সহজে জানতো।

এখানে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের সবাই জানে ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগের পতন হয়। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতা একই সাথে রাজনীতিবিদ এবং অন্যদিকে সরকারি দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালক ও কর্মকর্তা তারা আক্রমণের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। অনেকের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়েছে। অনেক লোককে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা সেদিন মেরে ফেলেছে।

সেখানে সে ব্যতিক্রম ছিলেন, সে একদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন এবং অন্যদিকে সরকারি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সেজন্য সে অনেক বেশি টার্গেটে ছিলেন।

১৫০ জন থেকে ২০০ জন লোককে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে সে এবং তার পরিবারের জীবন রক্ষা পায় এবং তার বাসায় আক্রমণ যেভাবে হয়:

খোন্দকার তারেক রায়হানের বাড়ির গুগল ম্যাপ থেকে দেখা যায়, বাড়ির লোকেশন দেখলে সে যে বাড়িতে থাকতেন শুধু সেই বাড়ি অনেক বড় বাউন্ডারিওয়ালা অনেক গাছপালা ছিল, এটাই তার জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল।

সে যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়িতে প্রায় ৮০০ শতক জায়গার উপর নির্মিত বাড়ি ছিল, যেখানে অনেক গাছ , খেলার মাঠ বড় বাউন্ডারি ওয়ালা বাড়ি ছিল।যা বহু পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে।তার বাড়ি আক্রমণ করেছে সামনের অংশে মেইন রাস্তায় অর্থাৎ বাড়ির উত্তর দিকে ১৫০ থেকে ২০০ জন আক্রমণের মুখে সময় মেইন রাস্তায় উত্তর দিকে ছিল সেটি ছিল প্রধান গেইট। আক্রমণকারীদের শুধুমাত্র প্রধান গেইট অথবা বাড়ির উত্তর পাশ সম্বন্ধে ধারণা ছিল, তারা জানতো না পিছন দিয়ে সে পালিয়ে যেতে পারবেন।

কিন্তু তার বাড়িটি এমনভাবে ছিল বাকি তিন অংশ অর্থাৎ হচ্ছে দক্ষিণ দিক, পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিকে আক্রমণকারীরা ছিল না। আক্রমণকারীরা শুধু মেইন রাস্তা উত্তর দিকে ছিল।তবুও সে যদি পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিক দিয়ে দেওয়াল টপকিয়ে পালাতেন আন্দোলনকারীরা তাকে ধরে ফেলতে পারতো।

অর্থাৎ বাড়ির তিন অংশ নিরাপদ ছিল না। কিন্তু দক্ষিণ দিকে পালানোর সময় আন্দোলনকারীদের চোখ পড়ে নাই কারন দক্ষিণ দিকে বাউন্ডারি ওয়ালের পাশাপাশি বাসার কারণে সে যখন পলায়ন করে আক্রমণকারীরা তাকে বিল্ডিং এর জন্য দেখে নাই।

সরজমিনে দেখা যায় দক্ষিণ দিক দিয়ে দেওয়াল টপকিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পেরেছে কারণ দেওয়াল পার হওয়ার পরপর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অনেকগুলো বড় বড় বিল্ডিং রয়েছে, সেখানে হাজার হাজার পরিবার এই সমস্ত বড় বড় বিল্ডিং গুলোতে থাকতো। তেমনি সেখানে খন্দকার তারক রায়হানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল, তার বাসায় মুহূর্তের ভিতর আশ্রয় নেন। সে কারণে আক্রমণকারীরা তাকে ধরতে পারে নাই।

এছাড়া যেভাবে সে দক্ষিণ দিক দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে পলাতে পারে:

আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখি ও ওই বাসার সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা আব্দুল মান্নান বলেন আমাদের স্যার খোন্দকার তারেক রায়হান স্যার তার বাসার পিছন দিক দিয়ে অর্থাৎ দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি ওয়াল এর পাশে লাগানো ছিল তার সরকারি বাসার অনেকগুলো পানির টাংকি ছিলো ,সেই কারণে সেই জায়গাটা উঁচু ছিল , তাছাড়া সেখানে নিচে মেইনটেনেন্স এর কাজ চলে ছিল, সেই কারণে সেখানে চেয়ার আকৃতির একটি স্থাপনা ছিল। যা দিয়ে সে মুহূর্তের ভিতর পার হয়ে যেতে পারে এবং তার পরিবারকে পার করতে পারে। প্রথমে সে নিজে পার হয়, পরবর্তীতে তার স্ত্রী তার দুই সন্তানকে এক এক করে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তার হাতে দেন, তারপর তাদের পার করে। সর্বশেষ তার স্ত্রী পার হয়। পার হয়ে দ্রুত সরকারি নিরাপদ অন্য একটি বাউন্ডারির ভেতরে তার এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নেন।

তখন আক্রমণকারীরা আমার বাসার গেট ভেঙ্গে তাকে আর খুঁজে পায় নাই, আন্দোলনকারীরা গেইট ভাঙতে ৩০ মিনিট সময় লেগেছে। সে আক্রমন করার বিশ মিনিটের ভিতরে দেওয়াল পার হয়ে অন্য কোয়ার্টারে আশ্রয় নেওয়ার সুবিধা পাই। আর যদি ১০ মিনিট দেরি হতো তাহলে আক্রমণকারীরা তাকে মেরে ফেলতো।

আরো..