হিমাদ্রি শেখর কেশব, বরগুনা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা, দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বরগুনায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরগুনা শহরের সদর রোডে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরগুনা জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক ইউসুফ আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ, পাথরঘাটার বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান শরীফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, আমতলী ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এ জেড এম সালেহ ফারুক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের জামাতার বাড়িতে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফনকাজে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিলম্বের পর পুলিশ লাইন্সে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে গভীর রাতে কঠোর পুলিশি পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর জানাজা, দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীনতার পর মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার, ধর্মীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। অথচ স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের উত্তরসূরিরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়েও বাধা দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সমাবেশের সভাপতি ও জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক ইউসুফ আলী মৃধা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্য। এ ধরনের ঘটনা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।