https://www.a1news24.com
১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৫৩

মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশার দখলে সিলেটের সড়ক মহাসড়ক

স্টাফ রিপোর্টার: সিএনজি চালিত ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশার বর্তমান অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। ২০০২ সালে পেট্রোল চালিত টু-স্ট্রোক অটোরিকশা তুলে দিয়ে যখন সিএনজি অটোরিকশা চালু করা হয়, তখন প্রাথমিকভাবে এর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ৯ বছর। পরবর্তীতে মালিক পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে এটিকে সর্বমোট ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। আয়ুষ্কাল ও সার্বিক পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের মূল নীতিমালায় কোনো সিএনজি অটোরিকশার বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হলে সেটির বাণিজ্যিক চলাচলের অনুমতি বা রুট পারমিট আর নবায়ন করা হয় না।

মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলোকে বিআরটিএ নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে এনে স্ক্র্যাপ বা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এই ধ্বংসকৃত গাড়ির চেসিস ও কাগজপত্রের বিপরীতে মালিকরা নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান।

বর্তমানে সরকারের এই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না সিএনজি অটোরিকশার মালিক বা চালকরা। যার ফলে সিলেট নগরের অন্তত ৫০টি এলাকায় সড়ক, মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠেছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড।

গত ২০২৫ সালের হিসেবে সিলেটে সব মিলিয়ে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার সংখ্যা ছিলো ১৯ হাজার ২০০। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব অটোরিকশা সিলেটে চলছে। কিন্তু বাস্তবে নগরে চলাচল করছে ৫০-৬০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশা। শ্রমিক ও পুলিশের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে। এগুলোই এখন সিলেট নগরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণের পাশাপাশি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছে। সিলেট নগর ও জেলায় চোরাই সিএনজি-অটোরিকশা দ্বিগুণ বেড়েছে। শুধুমাত্র ‘টোকেন’ ব্যবহার করে এগুলো সড়কে চলছে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরে বর্তমানে এভাবে ৫০টি’র মতো অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে। অবৈধভাবে চলাচলকারী ৪০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশাকে টোকেন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে অর্ধেক অটোরিকশা রয়েছে অনটেস্ট। যেগুলো বিভিন্ন শোরুম থেকে কেনা হয়। অনটেস্ট নামে বছরে পর বছর এসব সিএনজি-অটোরিকশা সড়কে চালানো হচ্ছে। এর বাইরে অর্ধেক গাড়িই হচ্ছে চোরাই। এর সংখ্যা হবে প্রায় ১৫ হাজার। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে আনা এসব সিএনজি-অটোরিকশা অনটেস্টে বা রিফুজি নামেই সিলেট নগরীতে চলছে। টোকেন থাকায় ট্রাফিক পুলিশও তাদের ধরে না।

সিএনজি-অটোরিকশা মালিকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভয়াবহ কাজ হচ্ছে ভুয়া অকশনের কাগজ ব্যবহার করে মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি-অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া শ্রমিক নেতাদের শেল্টারে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। তারা টোকেন দিয়ে পুলিশ ম্যানেজ করে অটোরিকশা চলাচল করাচ্ছে। পাশাপাশি একটি বৈধ নাম্বার দিয়ে ৮-১০টি সিএনজি-অটোরিকশা নগরে চলাচল করে। এই অবস্থায় বৈধ অটোরিকশার মালিকরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার। পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের টাকা না দেয়ার কারণে নানাভাবে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার শ্রমিক ও মালিকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

আরো..