https://www.a1news24.com
২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:০২

মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

দীর্ঘতম সময় ধরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। খবর রয়টার্সের।

নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান মোখজানি মাহাথির।মালয়েশিয়ার আধুনিকায়নের কৃতিত্ব প্রায়শই মাহাথিরকে দেওয়া হয়, ১০১ বছর বয়সী এই নেতা দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, যা সব মিলিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়।

১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তার প্রথম মেয়াদে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ‘ইকোনমিক টাইগার’ বা দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন।

২০১৮ সালে তিনি পুনরায় শীর্ষ পদে ফিরে আসেন। বহু-বিলিয়ন ডলারের ‘ওয়ানএমডিবি’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত তৎকালীন নেতা নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করতে অবসর ভেঙে ফিরে আসার পর তিনি দেশের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী হন।

তুন ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরে মেডিকেল স্কুলে পড়ার সময় মাহাথির ও সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। আগস্ট মাসে দাম্পত্য জীবনের ৭০ বছর পূর্ণ করা এই দম্পতি সাত সন্তানের জন্ম ও লালন-পালন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী মোকজানি, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিবিদ মুখরিজ মাহাথির।

নিজ গুণেই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সিতি হাসমাহ তার অনাড়ম্বর স্বভাব ও রসবোধের জন্য পরিচিত ছিলেন—যা তার স্বামীর স্পষ্টবাদী ও কঠোর আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। একজন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে তিনি জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

মাহাথির তাকে নিজের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সিতি হাসমাহর বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করতেন—যা সেই সময়ে জাতিগত মালয় নারীদের মধ্যে বিরল একটি বিষয় ছিল।

আরো..