https://www.a1news24.com
২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৬

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ ভারতীয় হাইকমিশনার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং জনগণমুখী একজন ব্যক্তি।’ দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গণতন্ত্রে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আলোচনার কোনো শেষ নেই। আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলে গণতন্ত্রের মূল চেতনারই ব্যত্যয় ঘটে।

আলোচনাকে প্রবাহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, গঙ্গা ও পদ্মার মতো নদী যেমন অবিরাম প্রবাহিত হয়, গণতান্ত্রিক আলোচনাও তেমনি চলমান থাকা উচিত। কোনো একপর্যায়ে আলোচনা থেমে গিয়ে স্থবির হয়ে পড়া উচিত নয়।

জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এসে অত্যন্ত আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার আমাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সংসদ ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনটি অত্যন্ত সুন্দর একটি স্থাপনা। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই আকাঙ্ক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে মাথা উঁচু করে কাজ করার সুযোগ পাবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বৈঠকে সংসদ ও গণতন্ত্রের পাশাপাশি খেলাধুলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি স্মরণীয় ইনিংস নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গেও সংসদীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সংসদ কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে দু’দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কীভাবে বাড়ানো যায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এই গ্রুপে দু’দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা থাকবেন এবং দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দু’দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে এমন একটি ধারাবাহিক যোগাযোগ তৈরি হোক, যার মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা পরস্পরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। এর মধ্যদিয়ে মানুষে-মানুষে যোগাযোগও আরও জোরদার হবে।

তিনি বলেন, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বাংলাদেশের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আশা করছি, ভারতীয় সংসদ পরিদর্শনের পাশাপাশি দু’দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও কার্যক্রম সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

আরো..