https://www.a1news24.com
২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩১

ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ‘প্রচারযাত্রার’ সমাপনী ‎

আজ ২৬ আগস্ট ২০২৬ ফুলবাড়ীর নিমতলার মোড়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এর আয়োজিত ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবসে সংহতি ও একাত্মতা জানিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ‘প্রচারযাত্রার’ সমাপনী অনুষ্ঠিত হলো। উল্লেখ্য গত ২৪ আগস্ট থেকে গণতান্ত্রিক কমিটির উদ্যোগে মার্কিন চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারিকরণ বন্ধ করার ৪ দফা দাবিতে তিনদিন ব্যাপী ‘প্রচারযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তিনদিনে একযোগে গাজীপুর, টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানীর মাজার, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গোবিন্দগঞ্জ, বিরামপুর এবং দিনাজপুরে সমাবেশ, পথসভা ও মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে প্রচারপত্র বিলি হয়েছে।

আজকের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এর আয়োজিত ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবসে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, চিকিৎসক ডাঃ হারুন উর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সামিনা লুৎফা নিত্রা এবং সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোশাহিদা সুলতানা ঋতু। পাশাপাশি এই সমাবেশে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রজত হুদা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের দিনাজপুরের নেতৃত্ব সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ সহ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, আদিবাসী মুক্তি সংগ্রাম কমিটি, দেশপ্রেমিক কৃষক শ্রমিক ছাত্র দল, খেলাঘর নানান স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশের শুরুতেই গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে ফুলবাড়ি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এরপর নিমতলার মোড়ে মার্কিন চুক্তির ভয়াবহতা দিক নিয়ে ‘বিপদের প্রদর্শনী’ আয়োজন করা হয়। এই বিপদের প্রদর্শনীতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কিভাবে বাংলাদেশের পোল্ট্রি, কৃষি, ওষুধ, গ্যাস শিল্পকে ধ্বংস করে তুলবে তা পূর্ণাঙ্গভাবে দেখানো হয়েছে।

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ফুলবাড়ী অভ্যুত্থান আন্দোলন ছিলো সারা পৃথিবীর জন্যই একটি দৃষ্টান্ত। এই আন্দোলন ছিলো ভয়াবহ বিপদ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার এক দুর্দম্য আখ্যান। যে এশিয়া এনার্জি কোম্পানি জনপ্রতিরোধের সামনে টিকতে পারেনি, আজকের দিনেও তারা শেয়ার বাজারে ফুলবাড়ীকে দেখিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। ২০০৬ এর পর থেকে প্রতিটি সরকারই এই মুনাফা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে এসেছে, ফুলবাড়ীর চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। ২০১২ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এই এলাকা পুলিশ দিয়ে দখল করার চেষ্টা করা হয়েছিলো, তখনও মানুষ প্রতিরোধ করে। এখন বিএনপি সরকার ৬ মাস যেতে না যেতেই তাদের মন্ত্রী উন্মুক্ত কয়লা খননের কথা বলছে।’। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ কয়লা উত্তোলনের বক্তব্যদাতা মন্ত্রীকে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের কথা বলেন।

অন্যদিকে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের অন্যতম সদস্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাহবুব সুমন বিরামপুর ও দিনাজপুর সমাবেশে বিএনপি সরকারের উন্মুক্ত কয়লা তোলার প্রস্তাবের সমালোচনা জানিয়ে বলেন, ‘দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে মাটির প্রায় ২৪০ মিটার বা প্রায় ৭৯০ ফুট নিচে কয়লার স্তর আছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে ৭৯০ থেকে ৮০০ ফুট গভীর কাটার পর কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। তার পর কয়লার জন্য আরো ১৫০ ফুট গভীর হবে। যে পরিমাণ বর্জ্য হবে তা রাখার জন্য পুরা দিনাজপুর শহরের সমান জায়গা লাগবে। চারপাশের দুপি টিলার পানি এসে জমা হবে এই উন্মুক্ত খনিতে। ফলে আশেপাশের ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র পানি সংকট তৈরি হবে, একই সাথে ডিওয়ারিং এট জন্য খনির মধ্যে জমা হওয়া বিষাক্ত পানি তুলে ফেলা হবে বাইরে, যা নতুন করে আবার বিষক্রিয়ায় ফেলবে সমগ্র বাস্তু সংস্থানকে’। তিনি দেখিয়েছেন কেবলমাত্র ২০০ জনের কর্মসংস্থান দেখিয়ে এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন স্থানীয় জনগণের জন্য আদতে ভালো কিছু নিয়ে আসবে না’।

গ্যাস বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের জনবান্ধব সমাধানের লক্ষ্যে বিদেশি ঋণনির্ভর, আমদানি নির্ভর, বিদেশি কোম্পানি নির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মহাপরিকল্পনার বাতিল করে ‘তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’ প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা (২০১৭) ধরে সুলভ, পরিবেশ বান্ধব নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

মার্কিন চুক্তিবিরোধী ‘বিপদের প্রদর্শনী’ তে দেখানো হয়েছে যে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান, অস্ত্র, মাংস ও মাছ আমদানি করতে হবে। অতিরিক্ত দামে এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি করতে হবে। এই চুক্তির ফলে দেশীয় ওষুধ কোম্পানি কম খরচে ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না, ফলে ওষুধের দাম বেড়ে যাবে কয়েকগুন। গ্যাস উত্তোলনে মার্কিন কোম্পানি বিনিয়োগ করলে দেশীয় গ্যাস বেশিদামে কিনতে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে রপ্তানির বাধ্যবাধতকতা তৈরি হবে। এই চুক্তির ফলে অবাধে মার্কিন পোল্ট্রি ও গরুর মাংস বাংলাদেশের বাজারে অবাধ প্রবেশের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশীয় পোল্ট্রি ও গরুর খামারিরা। এই সবকিছুই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অসম প্রতিযোগিতার মাঝে ফেলে দিবে যার ফলে বেকারত্ব বাড়বে। সর্বোপেরি জনগণের ডিজিটাল তথ্যের নিরাপত্তা এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানবে এই চুক্তি। কারণ মার্কিন রাষ্ট্র এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

 

‎প্রচারযাত্রার সমাপনী সমাবেশ থেকে মার্কিনবাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।

আরো..