গত ২৩ আগস্ট রাজস্থানের জয়পুরে জি স্টুডিওতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ বিজয়ী ঘোষণা করা হয় ১৯ বছর বয়সী কাজিয়া লিজ মেজোকে। কাজিয়া যদিও কেরালার মেয়ে, তবে তার শৈশব কেটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। মোট ৫২ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিজয়ের মুকুট পরেছেন কাজিয়া। তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। সেখানে কাজিয়ার কিছু ছবি পোস্ট করে তারা লিখেছে– ‘নতুন যুগের সূচনা! কাজিয়া লিজ মেজোর সঙ্গে পরিচিত হোন। তিনি নবনির্বাচিত মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬! হৃদয়ে মহত্ত্ব, আত্মার শক্তি এবং কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে কাজিয়া এখন মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার যাত্রা শুরু করলেন। অভিনন্দন, রানি! মহাবিশ্ব আপনার অপেক্ষায়।’
গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে কাজিয়াকে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি কি আপনার জীবনে নীরবতার শব্দ বর্ণনা করতে পারেন? হাসির ছলে কাজিয়া বলেন, ‘আমার কাছে, নীরবতা হলো মঞ্চে ওঠার আগের সেই শান্ত অবস্থা।’
নিজের জবাবের ব্যাখ্যাও দেন কাজিয়া– ‘আমি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রেমে পড়েছিলাম, মঞ্চের প্রেমে, স্পটলাইটের প্রেমে, হাতে মাইক্রোফোন থাকার প্রেমে। যদিও এসব বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু আমি মঞ্চে ওঠার ঠিক আগে নীরবতা অনুভব করি, শান্ত অনুভব করি এবং আমার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ সত্তায় থাকি। কারণ সেখানে নিজের বাড়িতে থাকার মতো অনুভব করি।’
কাজিয়া এর আগেও ‘মিস টিন ডিভা’, ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’, ‘মিস ইউনিভার্স কেরালা’ ইত্যাদির মতো বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেড়ে ওঠার সুবাদে কাজিয়া পড়াশোনা করেছেন এমিরেটস ন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট জোসেফ স্কুল এবং আবুধাবি ইন্ডিয়ান স্কুলে। আর এখন আইন বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংও করছেন।
কাজিয়া ১২ বছর শাস্ত্রীয় নৃত্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি একজন গায়িকাও। ড্রাম ও ভায়োলিনও বাজাতে পারেন তিনি। পাশাপাশি উপস্থিত বক্তব্য ও অভিনয়েও নিজেকে যোগ্য করে তুলেছেন। মালায়ালাম ভাষার ‘শাইলক’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয়েছে তার। তবে এবারের পথচলা বিশ^মঞ্চে। এই পথচলা সাবলীল হবে বলেই তিনি বিশ^াস করেন।