https://www.a1news24.com
২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫২

রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। আগের ১৩টি পয়েন্টের পর এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আরও ৫০টি ইন্টারসেকশনে সেমি অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন ৫০টি সিগনালের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২২টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।

গেল বছরের মাঝামাঝি ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বুয়েটের তত্ত্বাবধানে সেমি অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। এর কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছিল। এসব সিগন্যাল চালুর পর কিছু এলাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চালকদের অনেকেই বলছেন, এআই ক্যামেরার কারণে ট্রাফিক আইন ভাঙলে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এখন তুলনামূলক বেশি সতর্ক থাকছেন। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, নতুন ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে। ফলে এটি চালাতে নিয়মিত অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে এটি ‘ডিমান্ড রেসপন্সিভ’ হওয়ায় যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সিগন্যালের সময় সমন্বয় করতে পারবে। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে হাতের ট্যাব ব্যবহার করেও প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের পরিবর্তন করতে পারবেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে মানুষকে বের করে এনে সড়কে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সময় প্রয়োজন। তবে সাধারণ মানুষ নতুন এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এআই ক্যামেরাযুক্ত ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে অভিজ্ঞতা পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন চলাচল, যত্রতত্র পথচারী পারাপার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এআইভিত্তিক সিগন্যাল কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

ট্রাফিক সার্জেন্ট তারিকুল বলেন, যেসব এলাকায় যত্রতত্র পথচারী পারাপার কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেশি, সেখানে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রত্যাশামতো কাজ করতে পারছে না।

নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে।

আরো..