https://www.a1news24.com
১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৫১

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গারিবাবাদি বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকার যে কোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেবে না ইরান।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইসলামাবাদে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ শিথিল করবে।

তবে ৫ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দায়ী করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ১৩ জুলাই, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং এই জলপথ ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ২০ শতাংশ হারে টোল দিতে হবে।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান।

এদিকে সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ পুনর্বহালের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইরান।

আরো..