https://www.a1news24.com
৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৩১

চিতলমারী বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

বহিষ্কৃত সভাপতির পদ শূন্য, সাংগঠনিক স্থবিরতার অভিযোগ; রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে জামায়াত

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার(বাগেরহাট) থেকে: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বের অভাব ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে বহিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি জেলা বিএনপি। এতে পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, একই সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় নেতাদের দাবি, তারা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একদিকে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনে বিলম্ব, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, উপজেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।

বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির মনোনীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি অপরিহার্য। এটি যত বিলম্বিত হবে, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ঝুঁকি তত বাড়বে।”

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবীব ঠান্ডু বলেন, “সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বহিষ্কৃত হওয়ার পর জেলা কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মনিরুজ্জামান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়মনীতি অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিতলমারী উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকলে সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও প্রকট হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে আগামী দিনে দলগুলোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর।

আরো..