https://www.a1news24.com
৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৪০

সুন্দরবনে সিটকা ফাঁদে আটকা মায়াবী হরিণ উদ্ধার

ফুট পেট্রোলিংয়ে বন বিভাগের সাফল্য, একই এলাকা থেকে উদ্ধার ১২টি অবৈধ ফাঁদ

 

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরবন থেকে ফিরে:বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে আবারও ধরা পড়েছে বন্যপ্রাণী শিকারিদের সক্রিয়তার প্রমাণ। বনভূমির গভীরে পেতে রাখা অবৈধ সিটকা ফাঁদে আটকা পড়া একটি চিত্রা হরিণ জীবিত উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ করে হরিণটিকে আবারও তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।

একই অভিযানে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে আরও ১২টি সিটকা ফাঁদ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—সংঘবদ্ধ শিকারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকারের উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতে রেখেছিল।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ফুট পেট্রোলিং দল নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিল। টহল চলাকালে কাশিয়াবাদ স্টেশনের অধীন সত্যাপীর এলাকায়, লোকালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে একটি সিটকা ফাঁদে আটকে থাকা হরিণের নড়াচড়া দেখতে পান বনরক্ষীরা।

পরে ঝুঁকি নিয়ে জীবিত অবস্থায় হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই হরিণটির শরীরে থাকা ক্ষত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। হরিণটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে তাকে পুনরায় একই বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১২টি সিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। বন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের ফাঁদ সাধারণত চিত্রা হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারের উদ্দেশ্যে গোপনে বসানো হয়। এসব ফাঁদে আটকা পড়ে প্রাণীরা দীর্ঘ সময় কষ্ট পেয়ে মারা যায় অথবা গুরুতর আহত হয়, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “সিটকা ফাঁদে আটকে থাকা হরিণটিকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ১২টি সিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান এবং ফুট পেট্রোলিং অব্যাহত থাকবে।”

বন ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা সিটকা ফাঁদ শুধু হরিণ নয়, বন্য শূকর, গুইসাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর জন্যও প্রাণঘাতী। তাই নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বাড়ানো গেলে অবৈধ শিকার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন রক্ষায় এ ধরনের উদ্ধার অভিযান যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক ফাঁদ বনজীবনকে ঘিরে বিদ্যমান হুমকির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

আরো..