https://www.a1news24.com
২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:২২

হাটহাজারীতে এলজিইডির এক সড়ক প্রকল্পেই ভূমি মালিকের ২০ লাখ টাকার ক্ষতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক-চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দন ইউনিয়নে এলজিইডির একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফসলি জমি দখল, মাটি কেটে রাস্তা ভরাট এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবু মোহাম্মদ আবির।

গত ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, গুমানমর্দন ইউনিয়নের কাটাপাড়া শেখ ফরিদ সড়কের উন্নয়নকাজে এলজিইডির সার্ভেয়ার মো. হোসেন মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম অসচেতনতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন প্রকার নোটিশ প্রদান ছাড়া সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে তার পৈতৃক ফসলি জমি দখল করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাস্তার এক পাশে ৩ ফুট জায়গা নেওয়ার পরিবর্তে জোরপূর্বক প্রায় ৭ ফুট জমি দখল করা হয়েছে। এছাড়া ফসলি জমির মাটি কেটে রাস্তা ভরাট করায় জমির একটি অংশ গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ১ গণ্ডা (৮৬৪ বর্গফুট) জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেন, জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সরকারি নোটিশ বা বৈধ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চট্টগ্রামের এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘কাজটি জেলা এলজিইডি অফিসের আওতায় করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সংশ্লিষ্ট এলজিইডির উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে তথ্য দিতে বলা হয়েছে ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, ‘আমি খোঁজ খবর নিয়ে জনস্বার্থে ব্যবস্থা নেবো। যাতে কৃষকের কোন ক্ষতি না হয়।’

আরো..