হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতাঃ লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় হাতিয়ায় ভিন্ন ভিন্নভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি ও বিএনপি। মুখোমুখি মিছিলে উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতি ও ইটপাটকেলের ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে ধর্ষক সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহŸায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক, সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহবায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহবায়ক নেয়ামত উল্যাহ নীরব ও সমর্থক জহির উদ্দিন।
এর আগে লঞ্চে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬), হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২ একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোড়খালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমরুদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। ঠিক একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা ওই কলেজছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন। দরজা খুললে তারা কলেজছাত্রীর বাবাকে চেনেন বলে জানান। পরে তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল কেনার কিছু টাকা নিরাপত্তার জন্য কেবিনে রাখার অনুরোধ করলে সরল বিশ্বাসে ওই ছাত্রী তা রাখতে সম্মতি দেন।
এরপর তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে তার বেডে বসে। একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে। এ সময় মিঠু তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। পরে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে সাকিব উদ্দিন ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সংঘর্ষের বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।