অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ। তবে এর আগেই উপদেষ্টারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়ছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন জমা দিয়েছেন তাদের লাল পাসপোর্ট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেয়া শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা বিশেষ পাসপোর্ট ছাড়িয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
এছাড়া ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাদের বসবাসের জন্য সরকার থেকে দেয়া বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাটি বুঝে নেয়ার জন্য তারা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “একজন উপদেষ্টার সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার চিঠি আমাদের দপ্তরে এসেছে। ৩১ জানুয়ারি তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।”
এদিকে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়মতো ভিসা পেতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন।”
তবে তিনি এবং তার স্ত্রী কেউই এখনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপদেষ্টাদের বাসা ছেড়ে দেয়া ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চায়। সেজন্য তারা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে, পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পার হলেও ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি বাসা ছাড়েননি সাবেক দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘দুই মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এই সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।
এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, “আমি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করি এবং একই মাসের ৩১ তারিখে হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ‘নিলয়-৬’ যথাযথভাবে হস্তান্তর করি। বর্তমানে আমি আমার নিজস্ব বাসায় বসবাস করছি এবং সেখান থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা পদাধিকারবলে ঢাকা শহরে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে বিশেষ শর্তে ও কোটায় মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট বা বাংলো বরাদ্দ পান। পদ থেকে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা হস্তান্তর করতে হয়।
একইভাবে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরা ৫ বছর মেয়াদী লাল রঙের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পান। পদত্যাগ, মেয়াদ শেষ বা সরকার পরিবর্তনের পর এই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়।