https://www.a1news24.com
১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১১

শ্রীপুরে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা, ১৯ ঘন্টা পর সরকারি খাস জমিতে দাফন

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: বাবার কেনা জমিতে মা’য়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ায় ১৯ ঘন্টা পর সরকারি খাস জমিতে মরদেহ দাফন করেছে ছেলে ও স্বজনেরা। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে বাড়ীর পাশেই সরকারি খাস জমিতে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। নিহতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শ্রী মেনোকা (৬০) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আকতাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়ীতেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তিনি আদিবাসী জাতের বাসিন্দা।

মৃতব্যাক্তির ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বলেন, প্রায় ৪-৫ বছর আগে সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমি সাব-কাবলা দলিল করে দেয়নি। গতকাল তার মা মারা গেলে ক্রয়কৃত জমিতে দাফন করতে গেলে সফির উদ্দিন বাধা দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি, ও জনপ্রতিনিধি একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সমাধানে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

পরে ১৯ঘন্টা পর বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে বাড়ীরে পাশেই সরকারি খাস জমিতে শ্রী মেনোকাকে দাফন করে ছেলে ও পরিবারের স্বজনেরা।

তিনি আরো জানান, নিহত মেনোকা তার সৎ মা। তার বাবা শ্রী গোপাল প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় মাওনা ইউনিয়নের আকতাপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী মেনোকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। মিউটেশন (খারিজ) জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বিক্রেতা সফির উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করছেন এবং তার মায়ের মরদেহ তার বাবার কেনা জমিতে দাফনে দাফনে বাধা দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ চেষ্টা করেও বাবার কেনা জমিতে মা’য়ের দাফন করতে পারিনি।

মেনোকার ভাই নিধারণ বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে এক শতাংশ জমি কিনেছিলেন। বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদহে দাফনের জন্য খনন করতে গেলে সফির উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা লাঠি নিয়ে এসে বাধা দেয়। বাবার কেনা জমিতে দাফন করতে না পেরে তাদের আক্ষেপ রয়ে গেলো। সফির উদ্দিন জমি বিক্রির বিষয়টিও অস্বীকার করছেন। জমি কিনেও মায়ের মরদেহ দাফন করতে পারলাম না। স্বজনেরা কেউ মারা গেলে দাফনের জায়গাও আমাদের নেই।

অভিযোগের বিষয়ে সফির উদ্দিন বলেন, আমার জমিতে আদিবাসী (মান্দাই) মহিলাকে দাফন করতে দেব না। তাঁদের কাছে আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং কোনো টাকাপয়সাও নেইনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, সফির উদ্দিনকে আমরা অনেক বুঝিয়েও কোনো সমাধান করতে পারিনি এবং আদিবাসী বৃদ্ধাকে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই ব্যাক্তিকে বুঝানো হলেও তিনি দাফন করতে দেননি। পরে বৃদ্ধাকে তার স্বজনেরা সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করেন।

আরো..