https://www.a1news24.com
১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৫৩

‎শিক্ষা ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য ‎ ‎

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার সদস্যসচিব তাহমিদ আনোয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের পর দেশের জনগণ একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে। এই সরকারের প্রতি মানুষের যেমন অনেক আশা ও আস্থা ছিল, তেমনি এখনো সেই প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট ও মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে শুধু পরীক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর অনমনীয় মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
‎
‎বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরাবরই বলে আসছে শিক্ষা জনগণের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অসংখ্য শিক্ষার্থী আজও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের প্রধান কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কোচিং ও ব্যাচে পড়ছে। এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিফলন।
‎
‎তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব পালনের শুরুতেই ভুল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এরই ফলাফল হিসেবে আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন আমরা প্রত্যক্ষ করছি। শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
‎
‎বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে চাষাড়া চত্বরে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আগে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতেই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন শিক্ষাসংস্কার বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিল। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছিল। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অন্য কোনো দেশের মডেল অনুকরণ করে নয়; বরং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। সেই শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা গবেষণা, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
‎
‎বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার মান কখনোই শুধু পরীক্ষার হলে কঠোর পাহারা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কিংবা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব নয়। প্রকৃত সংস্কারের জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
‎
‎বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধানের পরিবর্তে অযৌক্তিক ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা এমন একটি গণমুখী, বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে দক্ষ, মানবিক, যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করানো নয়।

আরো..