https://www.a1news24.com
৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৪৪

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সৌদি আরবে ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থান মদিনার মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি কেন্দ্রে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেইজে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিন্দা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় তাইবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ‘মসজিদে নববীর বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর পবিত্রতার ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে দেশটির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষতি করে, এমন যেকোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত বৃহস্পতিবার জানায়, হুতি গোষ্ঠী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা করেছে। এই কেন্দ্র থেকে ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে হুতিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি—হামলার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি। হুতিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবাকে দেওয়া এক হুতি সামরিক সূত্র জোটের এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। এরপর হুতিরা জানায়, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে থাকা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, জোটের বাহিনী রাজধানী সানায় তাদের ভাষায় ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু’ বা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি হামলার লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ২০২২ সালের পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর লড়াই। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতিদের আন্তসীমান্ত হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর আবার সংঘাত শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এরপর তারা সৌদি ভূখণ্ড এবং জাহাজে হামলা শুরু করে। একই সময়ে হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায়ও বড় ধরনের ভূখণ্ডগত সাফল্য অর্জন করেছে। জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং হুতিদের প্রতিহত করতে লড়াইরত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে।

আরো..