https://www.a1news24.com
২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫১

ভূমিহীন মানুষের জন্য নির্মাণ করা স্কুলটি উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ

টি.আই সানি,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকি বলে কি মানুষ নই? আমাদের সন্তানদের কি পড়াশোনার অধিকার নেই? আমরা আমাদের সন্তানদের পbড়াতে চাই, বড় করতে চাই। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটি চালু হোক।’ কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

২০২২ সালে প্রায় ২১ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপজেলার অসহায়, দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয় ১৪২টি ঘর। ১৪২টি পরিবারকে ঘরের দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি ঘরে কেউ বসবাস করছেন না। আরও ২৫ থেকে ৩০টি ঘরে কয়েক মাস পরপর বাসিন্দারা এসে উপস্থিতির জানান দিয়ে চলে যান। তবে বর্তমানে নিয়মিতভাবে বসবাস করছে ৮২টি পরিবার।

প্রকল্পটিতে রয়েছে কবরস্থান, মসজিদ ও পুকুর। গাছপালায় ঘেরা মনোরম গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে বসবাসরত ৮২টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু-কিশোর রয়েছে।

তাদের বয়স হয়েছে স্কুলে যাওয়ার। কিন্তু আশপাশে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় এবং দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেক শিশুই নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব শিশুরও স্বপ্ন আছে। তারাও পড়াশোনা করে বড় হতে চায়, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায় এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে চায়। অথচ তাদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভেতরেই নির্মাণ করা হয়েছে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি স্কুল ভবন। প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনটি পড়ে আছে। আজ পর্যন্ত সেখানে চালু হয়নি কোনো শিক্ষা কার্যক্রম।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর যাদের দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ঘরের মালিক একদিনও এখানে আসেননি। ইমামের বেতনের অভাবে মসজিদও ঠিকমতো চালাতে পারি না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, স্কুলের ভবন আছে, কিন্তু সেটি তালাবদ্ধ। আমাদের সন্তানদের এখানে পড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ১৪০টি ঘর রয়েছে। প্রায় সব পরিবারেই স্কুলে পড়ার উপযোগী ছাত্রছাত্রী রয়েছে। পরিত্যক্ত স্কুলটি কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্কুলটি চালু করে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মসজিদটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরো..