পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার পাইকগাছায় সাময়িক বরখাস্তকৃত লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস ও সোলাদানার আব্দুল মান্নান গাজীকে এবার স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে লতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মেইন সড়কে লতা ইউনিয়নবাসী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। লতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু মুছা সরদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা সাময়িক বরখাস্থকৃত ইউপি চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্থ করার দাবি করেন। শহিদুল ইসলাম খলিফার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস, সুশান্ত মন্ডল, আক্তার সরদার, ইয়াছিন সরদার, বাচ্চু সানা, খোকন গাজী, তপন মন্ডল, আমিরুল ইসলাম, নূর ইসলাম সানা, ইব্রাহিম সরদার, সালাম সানা, আজিজ সানা, আশরাফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন শিকদার, হারুন তালুকদার, শেখ সুমন সহ আরো অনেকে।
প্রসঙ্গত, লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের এক কিশোরীর সাথে আপত্তিকর সেক্সস্যুয়াল ভিডিও কল ফাঁস হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে ও পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় লতা ইউনিয়নবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেন। পরবর্তীতে খুলনা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মতামতের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুন-২৩ তারিখে এক প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র উপসচিব জেসমীন প্রধান চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্থ করেন। পরবর্তীতে ৩ মাস ২২ দিন বরখাস্থ থাকার পর আবার স্বপদে বহাল হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় জনতার ভয়ে পরিষদে আসতে না পারায় আবার স্বপদে পুনর্বহালের জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট আবেদন করলে ২ এপ্রিল-২৬ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তের জন্য আসেন উপজেলা এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া। এখবর জানতে পেরে এলাকাবাসী অনিয়ম, দূর্নীতির, শিরোমণি কাজল কান্তি বিশ্বাসের স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য এ মানববন্ধন এর আয়োজন করেন।
অনুরুপ ভাবে খুলনার পাইকগাছার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান গাজীর আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পেতে করা আবেদনের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত তদন্ত কার্য সম্পন্ন করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস। তদন্তকালে উপস্থিত সকল ইউপি সদস্যরা লিখিতভাবে তাকে পুনর্বহাল না করার দাবি জানান। একই সাথে তার বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অনিয়ম ও দুর্নীতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান গাজীর বিরুদ্ধে এলাকবাসী ঝাড়ু মিছিলো করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রæয়ারী সাবেক এই চেয়ারম্যান তার প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা ফিরে পেতে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরিত হয়। নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তদন্ত কার্য সম্পন্ন করেন। এ সময় উপস্থিত মতামত ব্যক্ত করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিযুজ কান্তি মন্ডল, ইউপি সদস্য সিদ্দিক শিকারী, আজিজুর রহমান লাভলু, বাবু, ও আবুল কালাম।