ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে এক অসহায় ও দরিদ্র মুমূর্ষু প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন।
জরুরি চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে এক অসহায় ও প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে পরম মমতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। তাঁদের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপে নিশ্চিত হয়েছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ওই নারীর জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ডাঙাপাড়া এলাকা থেকে চরম প্রসব বেদনা নিয়ে এক গর্ভবতী নারী প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরে শনিবার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে দেবীগঞ্জের চিকিৎসকরা জানান, তাঁর গর্ভস্থ সন্তানটি মারা গেছে। তবে সেখানে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের সুব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালেও রাতে জরুরি সিজারিয়ান সেবা সচল না থাকায় অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। তীব্র প্রসব বেদনায় ছটফট করা মুমূর্ষু ওই মাকে নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ডিজার হোসেন বাদশা ও পঞ্চগড় যুব উন্নয়নের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রসূতি মাকে নিয়ে সারারাত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ক্লিনিকে ছুটোছুটি করলেও কোথাও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাসেবার এমন সীমাবদ্ধতায় চরম হতাশায় পড়েন স্বজন ও উদ্ধারকারীরা।
অসহায় ও প্রসূতি শহর বানু, পিতা, সরজামাল, স্বামী আশরাফুুল ইসলাস, গ্রাম ডাঙ্গাপাড়া, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
একজন সংকটাপন্ন মায়ের এমন করুণ পরিস্থিতি ও চিকিৎসাসেবার বিলম্বের খবর পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও স্বজনরা হতাশা হয়ে রবিবার ২৩ আগষ্ট সকালে জনপ্রতিনিধি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সিভিল সার্জন মহোদয়কে অবহিত করা হয়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেন প্রশাসনিক শীর্ষ দুই কর্মকর্তা।
ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার সুবিধার্থে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। একই সাথে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে মুমূর্ষু মাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে দিনাজপুরেই তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জরুরি মুহূর্তে সংকটাপন্ন অবস্থায় একজন অসহায় মায়ের জীবন বাঁচাতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এমন দ্রুত, মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।