https://www.a1news24.com
২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫৭

নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প-ভ্যান্সের ভিন্ন অবস্থান, ইসরাইলের নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াতে চান না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ অবস্থান জানান। এর আগের দিনই নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

ভ্যান্স বলেন, নেতানিয়াহুকে সমর্থন করার পক্ষে বা বিপক্ষে—কোনো অবস্থানেই তিনি নেই। ইসরাইলের নির্বাচনে তিনি জড়াতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন করেন এবং বর্তমানে তাঁর মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন দিয়েছিলেন ভ্যান্স। তবে ওই নির্বাচনে পিটার ম্যাগায়ারের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন অরবান।

দুই মেয়াদেই নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন এবং ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যুতে অগ্রগতি ছাড়াই আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পরও ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ভ্যান্স রিপাবলিকান দলের সেই অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যারা ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার বিরোধী। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতে মার্কিন নাগরিকদের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা এই অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।

ভ্যান্স অবশ্য ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে কথা বলেছেন। তা সত্ত্বেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে ইহুদি রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল ইসরাইল। সে সময় ভ্যান্স বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যা সমাধানে শুধু মানুষ হত্যা করে যাওয়া যায় না। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করার বিষয়েও নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষায়, ইসরাইলের হাতে ট্রাম্পই এখন ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’।

ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ভ্যান্সের নিরপেক্ষ অবস্থান ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জন্য কী প্রভাব বয়ে আনবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো এড়াতে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ইসরাইলি ভোটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইয়াশার পার্টি। দলটির নেতা ও ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট জানিয়েছেন, সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জোট গড়ার চেষ্টা করবেন তিনি।

আরো..