ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারী যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বহরে আরও ১০০টি ‘পিংক বাস’ চালুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলো সংস্কারের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের একটি পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমীন দুলাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও মো. মতিয়ার রহমান অংশ নেন। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
বৈঠকে নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, বর্তমানে নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য ১৩টি রুটে মাত্র ১৪টি পিংক বাস চলাচল করছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় এই বাসের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও ১০০টি পিংক বাস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দেশজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো প্রশস্ত ও সোজা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নেওয়া নতুন সড়ক প্রকল্পগুলোর নকশায় ‘স্ট্রেইট লাইন’ বা সরলরেখা পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এদিন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বিস্তারিত অবহিত করা হয়। সড়ক ও মহাসড়কে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বর্তমানে গৃহীত নানা পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়।
এছাড়া কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল রিসোর্টটির বর্তমান অবস্থা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়কে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।