https://www.a1news24.com
১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৫১

ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ও অসৎ উদ্দেশে গণমাধ্যম ব্যবহার বন্ধের প্রত্যয় তথ্যমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যারা শুধু রাষ্ট্রের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্পাদক ও সংবাদ প্রধানদের নিয়ে গঠিত টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের (টিইসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কমিশনকে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানও প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষার বদলে অনেক সময় সরকারের অপকর্ম আড়াল করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।

মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক বিবেকের কাছ থেকে আড়াল করা। কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে আর কোনটি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে, সেটাও নির্ধারণ করত সরকার।
তিনি বলেন, দেশে এখনো সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ওয়েজ বোর্ডসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাজ করেছে। গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলো আরও মনোযোগের সঙ্গে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া প্রয়োজন। টেলিভিশন মালিক, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিকসসহ গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীর সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তার মতে, দক্ষ জনবল তৈরির জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি থাকা দরকার। কারণ, গণমাধ্যমকর্মীরা যত আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবেন, ততই সামগ্রিক গণমাধ্যম ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, যারা শুধু রাষ্ট্রের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন, তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে গণমাধ্যম খাতে মালিকানা নির্ধারণ, শ্রম আইন অনুসরণ, কর-ভ্যাট পরিশোধ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম না মানলে তাদের লাইসেন্স না দেওয়া বা নবায়নের সময় জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব ক্ষমতা যদি অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে থাকে, তাহলে তা রাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, তখন সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের অপকর্মের বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণমাধ্যম খাতের নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক দল সজাগ রয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা এবং নীতিনির্ধারণী কর্মসূচিতে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যম খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা।

তিনি বলেন, শ্রম আইন, করনীতি, রাজস্ব স্বচ্ছতা ও আর্থিক জবাবদিহি না মেনে কেউ গণমাধ্যমের মালিক হতে পারে না। লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অগণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের ক্ষমতাকে অনেক সময় রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শুধু সেবামূলক কার্যক্রম নয়, নীতিগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে এসে দেখেছি, গত কয়েক দশকে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিগত সংস্কার হয়নি। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ বিশ্বসভ্যতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ফলে মানুষের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। উন্নত দেশগুলোও এখনো এ পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি। ফলে গণমাধ্যম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত পরিবর্তন আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের পেশাগত ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার প্রভাব ও জনসম্পৃক্ততা অনেক বেশি। তাই গণযোগাযোগ ও সংবাদ পরিবেশনের বাস্তবতায় টেলিভিশন এবং ভিজ্যুয়াল মিডিয়াকে কেন্দ্র করেই নতুনভাবে ভাবতে হবে।

সংগঠনির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সময় টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু ছাড়াও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান ও সিওও শফিক আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশন বার্তা প্রধান জিয়াউল কবির সুমন ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল, চ্যানেল নাইন নির্বাহী সম্পাদক, ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ, গাজী টিভি বার্তা প্রধান গাউসুল আজম বিপু, দেশ টিভি, বার্তা প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা মহি উদ্দিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

আরো..