প্যাকেটজাত খাবারে এফওপিএল বাস্তবায়নের দাবিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬:প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে এবং প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট তথ্য এবং সতর্কবার্তা নিশ্চিত করতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এ দাবিকে জনপর্যায়ে আরও জোরালো করতে তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের সম্পৃক্ত করে শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘শালুকডাঙার কথা’ পথনাটক পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ পথনাটকে প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের প্রভাব, শিশু ও তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরা হয়।
‘শালুকডাঙার কথা’ নাটকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়, প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় ভোক্তারা অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সহজে বুঝতে পারেন না। এ অবস্থায় প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও দৃশ্যমান সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা অল্প সময়ের মধ্যে পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ মাননীয় সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ শোয়েব বলেন যে, এফওপিএল কোনো খাবার নিষিদ্ধ করার জন্য নয়; এটি ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি কার্যকর নীতিগত ব্যবস্থা। পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে জানার সুযোগ থাকলে ভোক্তারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য আরও সচেতনতার সাথে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেনঃ যে কোন উদ্দেশ্যকে সবার কাছে পৌছানোর জন্য তরুণরা সবসময়েই অগ্রনী ভুমিকা পালন করে এসেছে, তাই নিরাপদ খাবারের এই আন্দোলনে তরুণরাই অগ্রনীয় ভুমিকা পালন করবে এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। ‘শালুকডাঙার কথা’ সেই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্যাকেটজাত খাদ্য এবং ভোক্তার অধিকারকে তরুণদের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেছে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মনে করে, এফওপিএল বাস্তবায়ন শুধু একটি নীতিগত বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তার অধিকার রক্ষার বিষয়। এ বিষয়ে জনসমর্থন গড়ে তুলতে তরুণ সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে তরুণদের কণ্ঠে এফওপিএল বাস্তবায়নের দাবি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার এবং একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ মনে করে, সংস্কৃতিকে জনস্বাস্থ্য অ্যাডভোকেসির সঙ্গে যুক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের কাছে জনদাবিকে আরও দৃশ্যমান ও শক্তিশালী করতে পারে।