সাফিউল ইসলাম সাফি, পাটগ্রাম লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী উপজেলা পাটগ্রামে জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। যদিও সরকারিভাবে দেশে জ্বালানি তেলের বড় কোনো সংকট নেই বলে জানানো হচ্ছে, তবুও স্থানীয়ভাবে পাটগ্রাম উপজেলায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
পাটগ্রাম উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কৃষকরা সেচের জন্য ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ইরি ধান, ভূট্টা এবং বিভিন্ন রবি শস্য চাষে সেচ দিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে তেল পাম্পগুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক সময় তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে খুচরা দোকানে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমিতে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের টেপুরগারি গ্রামের কৃষক শাহিনুর আলম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা সেচের জন্য ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহার করি। এখন যদি ডিজেল না পাই, তাহলে জমিতে পানি দেবো কীভাবে? ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের বড় ক্ষতি হবে।”জগতবেড় ইউনিয়ন কৃষক নাদিরুজ্জামান বিরু জানান, “ইরি ধান ও ভূট্টার জমিতে এখন নিয়মিত সেচ দরকার। কিন্তু তেলের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন কমে যাবে।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি তেল পাম্পের মালিকরা জানান, সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের মাঝে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।পাটগ্রাম ফিলিংশ স্টেশন মালিক সুত্রে জানাযায়, গত ১২ দিনে পাটগ্রামে ডিজেল এসেছে ১৯৫০০ লিটার অথচ এই সময়ে পাটগ্রাম উপজেলায় ডিজেল এর চাহিদা প্রতিদিন ২৫০০০ লিটার।
পাটগ্রাম রাহিম এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী রাহিমুল হক জানান, বর্তমান মৌসুমে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা আমার ডিপুতে প্রতিদিন ১০ হাজার লিটার কিন্তু ২ মার্চে পর থেকে পার্বতীপুর বাঘাবাড়ি থেকে আমাকে কোন ডিজেল সরবরাহ করে নাই ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে ইরি ধান, ভূট্টা ও অন্যান্য রবি শস্যের সঠিক উৎপাদন বজায় রাখতে নিয়মিত সেচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দ্রুত ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলছেন, কৃষি মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পাটগ্রামের কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এবিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, পাটগ্রাম উপজেলায় ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের সংখ্যা ৬৫৫০ টি। ডিজেল সেচপাম্প দিয়ে সেচকৃত জমি ১৯০৬০ হেক্টর। তিনি জানান ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে তবে দাম অনেক বেশি এতে অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক।