https://www.a1news24.com
৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৫৮

কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক

নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন চলাচলের পথ দখল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা বসিয়ে নগরবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখলের জায়গাগুলোর একটি ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে এলাকার সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, অনেকে জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গায়ও দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

দখলমুক্ত করা ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত এলাকায় পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখল রয়েছে। সেখানে আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং কিছু জায়গা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব জায়গাতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ফুটপাত দখল নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিচ্ছে। তিনি নিজে বিএনপির একজন কর্মী উল্লেখ করে বলেন, নিজের উদ্যোগে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হচ্ছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য কাউকে আগে জানানো প্রয়োজন আছে কি না- এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা দরকার, সেখানে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় প্রয়োজন হবে, সেখানেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কিছু কুচক্রী মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলের ভেতরে ও বাইরে যারা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, একইভাবে জনগণের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। জনগণের প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আরো..