এক্স-রে বন্ধ, দন্ত চিকিৎসা নেই
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করায় ব্যাহত হচ্ছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা। অনুমোদিত ১৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৫ জন। ফলে চিকিৎসক, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও স্বাস্থ্য সহকারীসহ ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায়। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার হাজারো রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি ও চক্ষু), মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি ও ল্যাব), ডেন্টাল সার্জন, ফার্মাসিস্ট এবং স্বাস্থ্য সহকারীসহ একাধিক গুরুত্বপ‚র্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে রেডিওগ্রাফি বিভাগের জনবল সংকটে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় হাসপাতালের এক্স-রে সেবা দীর্ঘ ২০বছর ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। একইভাবে ডেন্টাল সার্জনের পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত দন্ত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা শহর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সেবা প্রত্যাশি হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট ছাড়া হাসপাতালের অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল জনগণ পাচ্ছে না। দ্রæত শূন্য পদে নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইট বালু ব্যবসায়ী এম এ হক আকরাম বলেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আনুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল রাখা জরুরি। দ্রæত জনবল নিয়োগ, অচল যন্ত্রপাতি সচল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আহসান হাবিব বলেন, “আমি স¤প্রতি কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছি। হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, জনবল ও সেবার অবস্থা পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছি। যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলোর তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যমান জনবল দিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলো দ্রæত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা করবে।