https://www.a1news24.com
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:১৪

কলেরার টিকা পেয়েছেন ৮২.৬ শতাংশ, প্রথম ডোজে বাদ পড়েছেন সাড়ে ৮ লাখ

বাংলাদেশে কলেরার প্রথম ধাপের মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। প্রথম ডোজ থেকে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন। সবচেয়ে কম টিকাদান হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন।

বাদ পড়াদের বড় অংশই নারায়ণগঞ্জের। জেলাটিতে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন।অর্থাৎ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ পাননি। প্রথম ধাপে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জের।

গত ২২ আগস্ট দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা কর্মসূচি শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরের সাতটি থানা ও চার জেলার সাতটি উপজেলাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।কর্মসূচির আওতায় রয়েছে কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকা। ঢাকার সাতটি থানা হলো লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও।

ঢাকার বাইরে আওতায় থাকা এলাকাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা।

এগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। এরপর কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলো না
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় তা অর্জন নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। নিয়মিত বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার সব বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।এ ছাড়া লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচির মিল না থাকায় তাঁরা টিকা নিতে পারেননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এতে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি। জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেখানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়েছে।

কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় জনসংখ্যার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মানুষের এলাকা পরিবর্তনও টিকা থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধি দল টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। গাভি বিনামূল্যে এই টিকা সরবরাহ করেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা ছিল না। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা। আমরা যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি, সেটিই জানিয়েছি। ’

তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষকে লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মসূচির তুলনায় এ ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার কিছুটা কম থাকে।‘আমরা যতটা সম্ভব প্রচারণা চালিয়েছি,’ বলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে কম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলাটির সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন অধ্যাপক হালিমুর রশিদ।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগ দেওয়ায় এর কারণ সম্পর্কে অবগত নন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উম্মে ফারহানা সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের ১৪৪টি এলাকাকে—উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের থানা—কলেরার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এরপর এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৪টি এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধীরে ধীরে বাকি এলাকাগুলোও কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর। ’

আরো..