পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে স্ত্রী-সন্তানের হাতে বারংবার শারীরীকভাবে লাঞ্ছিত হয়ে উল্টো মিথ্যাচারের মুখে সোমবার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বয়োবৃদ্ধ এক পিতা নওয়াব আলী গাজী। কপিলমুনি প্রেসক্লাবের হলরুমে সকাল ১১ টায় জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নওয়াব আলী গাজী তার বড় ছেলে নাজমুল হোসেন ও তার স্ত্রী ছবুরা বেগমের বিরুদ্ধে এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তার অভিযোগ, গত ২৬ এপ্রিল শনিবার দুপুর ১২ টায় তাদের বড় ছেলে নাজমুল ইসলাম তার মাতা মোছাঃ ছবুরা বেগমকে পটিয়ে কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, গত ১১ এপ্রিল বড় ছেলে নাজমুল ও তার স্ত্রী তাকে পিটিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে। এমনকি সেদিন সম্পূর্ণ ঘটনার আংশিক চিত্র প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সেদিন নাজমুল নাকি তার মায়ের নির্দেশে আমাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে। প্রকৃত পক্ষে তার স্ত্রী ছবুরা বেগম নিরক্ষর দাবি করে তিনি জানান, ধুরন্দর বড় ছেলে নাজমুল তার আপন ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেনকে বঞ্চিত করে মায়ের কাছ থেকে সমুদয় সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেওয়ার পায়তারা করছে দীর্ঘ দিন আগে থেকে। তিনি এতে বাঁধা দেওয়ায় নাজমুল পরিকল্পিতভাবে ৭ এপ্রিল তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। উপস্থিতিদের কেউ সেই ভিডিও চিত্র ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিলে মূহুর্তেই তা ভাইরাল হয়।
এঘটনায় তার দায়ের করা মামলায় নাজমুল জেল থেকে জামিনে এসে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করছে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, স্ত্রী ছবুরা বেগমকে দিয়ে উপস্থাপিত সম্মেলনে গত ১১ এপ্রিল তাকে মারপিটের ভিডিও চিত্রটি পারিবারিক ভিডিও চিত্র বলে দাবী করে আমাদের বড় ছেলে নাজমুলকে নাকি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। যার পুরো ঘটনা বাদ রেখে খন্ডচিত্র পোস্ট করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এর প্রত্যুত্তরে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, ১১ এপ্রিলের ভিডিও চিত্র আংশিক হলে পুরোটা কি ছিল? আসলে সেদিনের ঘটনা কোন সিনেমা বা নাটকের দৃশ্য নয়। তার উপর চলমান বাস্তব নির্যাতনের দৃশ্য। যাতে নাজমুলের স্বরুপ উন্মোচনের চেয়ে কুলাঙ্গার জন্ম দিয়ে তিনিই বেশি নাজেহাল ও সমাজের কাছে ছোট হয়েছেন বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, তাদের বাড়ি সংলগ্ন দক্ষিণ সলুয়ায় মাদ্রাসার খরিদা জমিতে ঈদগাহ নির্মাণ ও পাশ দিয়ে নির্মিত সরকারি রাস্তার জমির দখল ও পুণ:দখল ঘটনায় বড় ছেলে নাজমুল তাকে ও ছোট ছেলে শাহাদাৎ জড়িত থাকতে পারে এমন আশংকায় দোষারোপ করে আসছে। তিনি স্থানীয় জনৈক সাঈদুর রহমান মোড়ল কর্তৃক সেখানকার ৩ বিঘা জমি জবর দখলের অভিযোগ সত্য নয়। কিংবা মাদ্রাসার খরিদা জমিতে ঈদগাহ নির্মাণে বাঁধা প্রদানের অভিযোগও অসত্য। দাবী করে তিনি বলেন, সাঈদুর রহমান সেখানকার পৃথক খতিয়ানের বিআরএস পৃথক খতিয়ানের ১৯০, ১৯১,১৯৩,১৯৪ ও ১৯৫ দাগের .৩১ একর জমির খরিদা সূত্রে মালিক। এছাড়া ১৯৬ দাগের ১৭ শতক ডোবা শ্রেণির জমির ১০ শতক মাটি ভরাট করে রাস্তা ও ৭ শতক জমির বন্দোবস্ত গ্রহন সূত্রে মালিক। উল্টো তার জমির জবরদখলের ঘটনায় গত ৭ মার্চ নাজমুল ও স্থানীয় কথিত প্রফেসর শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাঈদের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় তারা গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে। এ ঘটনায়ও নাজমুল তার পিতা নওয়াব আলী ও ছোট ছেলে শাহাদাৎকে দোষারোপ করে ১১ এপ্রিলের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নওয়াব আলী গাজী আরো জানান, বিভিন্ন সময় আমার ছোট ছেলে শাহাদাৎ হোসেনকে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের চোখে অপরাধী প্রমাণ করতে বড় ছেলে নাজমুল গত আওয়ামীলীগ শাসনামলে দলীয় নেতা-কর্মীদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রাণি করিয়েছে। এছাড়া নাজমুলের বিরুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া চেকে টাকা উত্তোলন প্রচেষ্টা ও অর্থ-সম্পদ লোপাটের প্রকাশ্য হুমকি-ধামকির ঘটনায় দক্ষিণ সলুয়ার রামকৃষ্ণ দাশের মৃত্যুর জন্য ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, তার ছেলে ও মুদি ব্যবসায়ী সন্দীপ কুমার দাশ। বাকিতে মালামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে উল্টো হুমকির ঘটনায় নাজমুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে ১০ মার্চ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন, মামুদকাটি মোড়ের পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী বিপ্লব কান্তি সরকার। এছাড়া নাজমুল তার স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ ও এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তি অক্ষুন্ন রাখতে গত আ’লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানের ভাইসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সাথে মিশে চলত। এমনকি তাদের বাড়ীতে দাওয়াত করে খাওযানোর একাধিক ঘটনাও রয়েছে। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে সমুদয় অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের জন্য আহ্বান জানান তিনি।