https://www.a1news24.com
২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৫৬

ওটিটি’তে ধূমপানের দৃশ্য বন্ধে গাইডলাইন প্রণয়নের দাবী

কিশোর-তরুণদের কাছ অধিক জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অতিমাত্রায় ধূমপানের দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে। আইন ও সংস্কৃতি পরিপন্থী এমন প্রবণতা কিশোর-তরুণদের নেশার দিকে ধাবিত করছে। তরুণদের সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

২০ এপ্রিল ২০২৫ সকালে স্টামফোর্ড সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানস- মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ এবং ডিপার্টমেন্ট অব জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ এর যৌথ আয়োজনে ‘ওটিটি প্লাটফর্মে প্রদর্শিত কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে গাইডলাইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান। মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরোও বক্তব্য রাখেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান ড. মতিন রহমান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ডিপার্টমেন্ট অব জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী আব্দুল মান্নান, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন, অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল প্রমূখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রক্টর ড. মৃত্যুঞ্জয় আচার্য, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অফিসের উপদেষ্টা তামান্না জেরিন সহ আরো অনেকে।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানসের প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত এবং সভা সঞ্চালনা করেন মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সামগ্রীক উদ্যোগ তথা চাহিদা হ্রাস ও যোগান নিয়ন্ত্রণে কাজ করা প্রয়োজন। তামাক চাষ কমাতে কৃষকদের সহায়তা ও বিকল্প চাষাবাদে উৎসাহিত করতে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। সচেতনতার অংশ হিসেবে বিনোদন মাধ্যমগুলোতে ধূমপানের দৃশ্য প্রচার না করে ধূমপান বিরোধী প্রচারণায় কাহজে লাগানো প্রয়োজন, যাতে কিশোর-তরুণদের মধ্যে নেশাসহ নেতিবাচক প্রবণতা রোধ করা যায়।

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তামাক কোম্পানির প্ররোচনায় কিশোর-তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনকহারে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। ধূমপান মাদকের প্রবেশ দ্বার। ফলে তরুণদের মধ্যে ভয়ঙ্কর মাদকাসক্তি বাড়ছে। নাটক, সিনেমা এবং ওটিটি’তে প্রদর্শিত কনটেন্টগুলোতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য। ওটিটি’র নীতিমালা দ্রুত পাস করে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবী।

প্রবন্ধে উম্মে জান্নাত বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত কনটেন্টগুলো প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইন, বিধিমালা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। কনটেন্ট প্রচারে বয়স বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না এবং মাদক ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য কে গ্লামারাইজভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের মাঝে নেতিবাচক অভ্যাস তৈরির প্রবনতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে ওটিটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার মাধ্যমে, ওটিটির প্রোগ্রামগুলোতে তামাক ও মাদক ব্যবহারের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তাই আমাদের দেশেও অচিরেই ওটিটি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে।

আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, তামাকজনিত কারণে বছরে ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়! বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ও ভোগান্তি এড়াতে সচেতনতা কর্মসূচি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। চলচ্চিত্র শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম হিসেবে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। ধূমপানের নেশা তরুণদের সৃজনশীলতা ধ্বংস করে। সুতরাং সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা করে চলচ্চিত্রে ধূমপান বন্ধে আইন ও নীতির বাস্তবায়নে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে নতুন নীতি প্রণয়নক করতে হবে।

সভায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো, টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল, ডেভেলপমেন্ট এ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শতাধিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো..