https://www.a1news24.com
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৫৫

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত, মজুতদারির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রূপপুরে পারমাণবিক চুক্তির প্রভাব পড়বে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এসব তথ্য অনুযায়ী দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারদর নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আমদানিকারক ও অপারেটররা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।”

তবে পর্যাপ্ত মজুতের পরও দেশের কিছু এলাকায় এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যাতে এলপিজি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা জনঅসন্তোষ তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে বর্তমানে জল্পনামূলক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাবেও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সরকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চুক্তির কোনো নেতিবাচক প্রভাব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

রূপপুরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক চুক্তির কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি না পড়বে। ’তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাত্র পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করেছে।

ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণসহ আরও অনেক জটিল বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তি করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সংকট ও সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকবে। চীন, ভারত, রাশিয়া ও তুরস্কসহ প্রয়োজনীয় সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

আরো..