https://www.a1news24.com
১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:০৩

ইরান ইস্যুতে বুধবার ট্রাম্প–নেতানিয়াহু বৈঠক, পর্দার আড়ালে সামরিক শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আগামী বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এই বৈঠককে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন। এরই মধ্যে ইরানের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচটি কঠোর শর্ত ফাঁস হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের বদলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আলোচনা আরও অব্যাহত থাকবে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, এই আলোচনায় ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেগুলো হলো—

১। সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হবে।

২। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিতে হবে।

৩। ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে হবে।

৪। মিসাইল পোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।

৫। সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যেসব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী আছে তাদের সহায়তা বন্ধ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স বলেন, ট্রাম্পের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও ইরানের জন্য গ্রহণ করা সবচেয়ে কঠিন শর্ত হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি। তার মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রই ইরানের জন্য একমাত্র কার্যকর প্রতিরক্ষামূলক শক্তি, যা দেশটিকে শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে আসছে।

ম্যাডোক্স সতর্ক করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হারালে ইরান কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং ইসরাইলের আকাশ শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের মুখে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তার ভাষায়, কোনো ইরানি সরকারের পক্ষেই এমন শর্ত মেনে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানকে দেওয়া এই পাঁচ শর্ত বাস্তবে মানার অযোগ্য এবং সম্ভবত এমনভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাখ্যানের অর্থ হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার ঝুঁকি।

আরো..