https://www.a1news24.com
২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:১৩

আজ ভারতের বিপক্ষে যেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ

স্পোর্টস ডেস্ক: গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নবম আসর। আজ দ্বিতীয় দিনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর তিনটায় মুখোমুখি হবে দুইদল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতীয়দের সঙ্গে লড়বে টাইগাররা।

প্রথম ও শেষবারের দেখায় অবশ্য ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচটা তাই টাইগারদের জন্য প্রতিশোধের উপলক্ষ। অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে এমনিতেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিককালে এই ম্যাচ নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।

তবে সব ছাপিয়ে কেমন হবে বাংলাদেশে-ভারতের একাদশ তা নিয়ে চলছে জল্পনা। বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ মোহাম্মদ শামি ও আর্শদ্বীপকে নিয়ে গড়া ভারতের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ। যাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে শান্তদের। একই সঙ্গে ভারতের বোলিং ইউনিটে আছেন বিশেষজ্ঞ স্পিনার জাদেজা। যিনি এর আগেও বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছেন। তাই এদের সামলে খেলতে হবে ব্যাটারদের।

এছাড়া কুলদীপ যাদব খেলবেন নাকি বরুণ চক্রবর্তী এটার ওপর নির্ভর করবে অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দরের মধ্যে একজনের একাদশে থাকা। যদিও এই ম্যাচে জয় পেতে হলে ব্যাটারদের ছন্দে ফেরার বিকল্প নেই। কেননা সম্প্রতি টাইগারদের ব্যাটারদের ছন্দ নেই।

ভারতের তিন স্পিনার খেলানোর বিপক্ষে বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়ের একাদশ সুযোগ আগে আসতে পারে। কেননা তিনি স্পিন ভালো খেলেন। যে কারণে মিডল অর্ডারে একাদশে থাকার বড় দাবিদার তিনি। অভিজ্ঞতা বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহ থাকবেন একাদশে। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ফিনিশার রোলে অসাধারণ খেলা জাকের আলীকে বাদ দেওয়া কঠিন হবে। বাস্তবতা হচ্ছে- এই তিনজনের অন্তত একজনকে রাখতে হবে একাদশের বাইরে।

ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটিং লাইন আপ ডানহাতিতে ভরা। একাদশে বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ তাই অটোমেটিক চয়েজ হতে পারেন। মিরাজের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে থাকতে পারেন রিশাদ হোসেনও। নাজমুল শান্তর ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সাংবাদিকরা নাহিদ রানাকে নিয়েই প্রশ্ন করেছেন বেশি। নাহিদকে হুমকি মানতে শুরু করেছেন ভারতীয়রা।

অধিনায়ক শান্ত নাহিদের প্রশংসা করলেও একাদশে থাকার নিশ্চয়তা দেননি। পেসার তাসকিন আহমেদ এই দলে অটোচয়েজ হয়ে উঠেছেন। দুবাইয়ের উইকেটে মুস্তাফিজ হতে পারেন তার অটোমেটিক সঙ্গী। ভারতকে ব্যাটিং দিয়ে হারানো কঠিন। বাংলাদেশ তাই ছয় বোলার নিয়ে নামতে পারে। সেক্ষেত্রে তানজিম সাকিব ও নাহিদ রানার মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে।

কোথার উত্তাপ ছড়ালও অতীত পরিসংখ্যান কথা বলছে ভারতের দিকেই। ৪১ ওয়ানডেতে ভারতের ৩২ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জিতেছে ৮টিতে, ফলাফল হয়নি এক ম্যাচে। শান্ত-মিরাজদের ৮ জয়ের ৬টি ঘরের মাটিতে এবং অন্যদুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। ভারতের মাটিতে এখনো একদিনের ক্রিকেটে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কোনো জয় পায়নি।

বড় মঞ্চে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারতের সাক্ষাত হয়েছে পাঁচবার। এখানেও লড়াইয়ের ফল ভারতের পক্ষে। দুদলের পাঁচ দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে শুধু জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে চার দেখার কোনটিতে টাইগাররা জয় পায়নি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগে ভারতের সাথে দুবারের দেখায় দুবারই হেরেছে বাংলাদেশ। সবশেষ আসরে ভারতের কাছে হেরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি থেকে বিদায় নিয়েছিল টিম টাইগার্স। তবে টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পরিসংখ্যানের দিক না ভেবে কেবল মনোযোগ রেখেছেন মাঠের লড়াইয়ে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল শান্ত, মেহেদী মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান।

ভারতের সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা, শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, কেএল রাহুল, অক্ষর প্যাটেল, হার্ডিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ শামি, অর্শদ্বীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী।

আরো..