২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় শাহবাগে সকল হত্যাকান্ড এবং উদীচি-ছায়ানট-প্রথম আলো- ডেইলি স্টারসহ সকল প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা রুখে দিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে সভাপ্রধানের দায়িত্বে থাকবেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চাকমার সঞ্চালনায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান। কর্মসূচিতে উদীচি ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য সম্মিলিত সংগীত পরিবেশনা করেছে। কর্মসূচি শেষে একটি মিছিল শাহবাগ থেকে উদীচি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
সভায় সভাপ্রধান আনু মুহাম্মদ বলেন, “গত ১৮ তারিখ দেশব্যাপী প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট,উদীচির উপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অবিশ্বাস্য। ২০-২৫ জন সাংবাদিক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ডেইলি স্টারে আটক ছিলো। তাদেরকে বাঁচানোর জন্য সম্পাদক পর্ষদের প্রেসিডেন্ট এবং নিউ এইজের সম্পাদক নুরূল কবীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর উপর আক্রমণ করা হয় এবং যিনি কিনা গত দেড় দশকে স্বৈরাশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং হাসিনার আমলে দুর্নীতি, অন্যায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তাঁকে আওয়ামীলীগের দোসর বলে আক্রমণ করা হয়েছে। ছায়ানটকে আক্রমণ কেবল ভবনকে আক্রমণ করা না। বাংলাদেশের প্রতি স্বাধীনতাপূর্বক পাকিস্তানের যে আগ্রাসন, বৈষম্য, নির্যাতন, অত্যাচারকে মোকাবেলা করার জন্য তৈরি হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধের অংশ ছিলো ছায়ানট। এরপরদিন উদীচি ভবনকে আক্রমণ করা হয়েছে। উদীচি একটি ঐতিহাসিক সংগঠন, পাকিস্তান আমলের আগের থেকেও জনগণের মুক্তির আন্দোলনের শক্তিশালী অংশ হচ্ছে উদীচি। এই আক্রমণগুলো দেখলে বোঝা যায় এগুলো উদ্দেশ্যহীন কতিপয় যুবকের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নয়। এইটি খুবই পরিকল্পিত সন্ত্রাস।”
তিনি আরো বলেন, “আক্রমণের সময় তারা সংখ্যায় কম ছিলো এবং যখন তারা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছিলো তখন পুলিশ সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়েছিলো। পুলিশ সেনাবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার নিষ্ক্রিয় থাকার অর্থই হচ্ছে যারা এই সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদের পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় রাষ্ট্র নেমেছে। এই আকস্মিক নয়। গত কয়েক মাসে এই উল্লেখির স্থানগুলোতে আক্রমণ করার উস্কানি দিয়ে ফেসবুকে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এগুলো অজানা থাকার কথা না।”
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, “ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সরকারের ভেতরে দুইটি ফ্যাসিবাদী কায়দার সম্মেলন ঘটেছে। একটি হলো ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, যা ধর্মের নাম করে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখতে চায় এবং অন্যটি হলো কর্পোরেট ফ্যাসিবাদ যা কর্পোরেট স্বার্থকে সংরক্ষণ করে। জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে, জাতি বিদ্বেষ দিয়ে, লিঙ্গীয় বিদ্বেষ দিয়ে, শ্রেণী বিদ্বেষ দিয়ে বাংলাদেশকে ভয়ঙ্কর গন্তব্যের দিকে নেওয়ার যে অপচেষ্টা তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন। এজন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। জনস্বার্থে বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ মতের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে জনপন্থী অবস্থান নিতে হবে।”
কর্মসূচিতে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি পাঠ করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। দাবিগুলো হলো:
১। ওসমান হাদি, দীপু দাশ ও আয়শা আক্তার এর বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২। উদীচী, ছায়ানট , প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নালন্দা বিদ্যালয়সহ দেশজুড়ে সংঘটিত প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত ও বিচার করতে হবে৷
৩) সমস্ত সহিংসতায় উস্কানিদাতাদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৪) মতপ্রকাশের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫) সকল সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৬) জনগণের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণ করতে হবে।
৭) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।