আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা হেফাজতে মারা গেছেন এক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেছে। ওয়াশিংটন বলেছে, এই মৃত্যু প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের জঘন্য স্বভাবের আরেকটি প্রমাণ। মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, আলফ্রেদো দিয়াজ কারাকাসের এল হেলিকোইদে কারাগারে তার সেলে মারা গেছেন। সেখানে তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক ছিলেন। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী দিয়াজ হার্ট অ্যাটাকসদৃশ উপসর্গ দেখানোর পর হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে শনিবার তিনি মারা যান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ও মাদুরোর মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। মাদুরো এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে তার সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বোট ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি এসব বোট মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো নিজেই অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় মাদক চক্রগুলোর একটির প্রধান। এ অভিযোগ মাদুরো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো বলেছে, দিয়াজকে ইচ্ছামতো আটক করে একটি নির্যাতন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
দিয়াজকে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন- যে নির্বাচনে সরকার-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। অথচ বিরোধীদের নিজেদের গণনা বলে তাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জিতেছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা হয়নি। সারা দেশে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। নুয়েভা এসপার্টা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর দিয়াজের বিরুদ্ধে মাদুরোর বিজয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য ঘৃণা উস্কে দেওয়া ও সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল বলেছে, দেশটিতে রাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে।
সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট আলফ্রেদো রোমেরো এক্সে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার কারাগারে আরেকজন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু হলো। তিনি এক বছর ধরে একাকী বন্দি ছিলেন। তিনি আরও জানান, পুরো বন্দিত্বকালে দিয়াজ মাত্র একবার তার মেয়ের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৭ জন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু হয়েছে।