অনলাইন ডেস্ক: ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বাদ আসর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ইকরার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ইকরার বাবা তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের ক্রমাগত মানসিক প্ররোচনা ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইকরাকে চরম বঞ্চনা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আলভীর অনৈতিক জীবনযাপন ও অবহেলাই এই করুণ পরিণতির মূল কারণ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছিলেন।
ইকরার মৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন ইকরা। ওই কথোপকথনে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার চিত্রও ফুটে ওঠে।
জনপ্রিয় অভিনেতার স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভালুকার ওই গ্রামসহ সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভক্তদের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে যদি কারো প্ররোচনা থাকে, তবে তাকে যেন অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হয়।
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী যাহের আলভী এবং তার কথিত প্রেমিকা ও সহ-অভিনেত্রী তিথিকে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় পল্লবী থানায় মামলাটি রুজু হয়।
ইকরার মর্মান্তিক আত্মহত্যার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নতুন রহস্যের জন্ম হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে আলভীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন ইকরার পরিবারের সদস্যরা। এরপর রাতেই ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান কালবেলাকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় শুধু আলভী এবং তিথিই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইকরার স্বজনরা আগে থেকেই আলভীর পরিবারের বিচার দাবি করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল। মামলার পরিণতি সম্পর্কে পল্লবী থানার ওসি এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, তদন্ত শেষে আদালতে যদি আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং এরপর মামলা দায়েরের খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।