https://www.a1news24.com
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:২৮

সোহাগ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বের ষড়যন্ত্র হতে পারে: মির্জা আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত, এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা থাকতে পারে।

সোমবার (১৪ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষায়, ‘মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক কি না, তা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। এই ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না এবং এর মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচন প্রভাবিত বা বিলম্বিত করার কোনো অপচেষ্টা চলছে কি না—সে সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটিকে এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা তীব্রভাবে এর নিন্দা জানাই। বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল বহন করে না। মামলায় যাদের নাম এসেছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মিটফোর্ডের এই ঘটনা কোনো চাদাবাজি বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এই ঘটনার পেছনে একটি চিহ্নিত মহলের হাত রয়েছে, যারা বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে সুনির্দিষ্ট সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এসব ইঙ্গিত দেয়, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে চাইছে এবং বিএনপিকে টার্গেট করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পথে দেশকে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। সরকারের উদাসীনতা ও একপেশে অবস্থান আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত এক মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং বিশেষ করে সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতৃত্ব জনাব তারেক রহমানের চরিত্রহননের ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বা উপস্থিতির কোনো প্রমাণ ছাড়াই যেসব ব্যক্তির নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের মতো সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটি বিবেকবান রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছি এবং দোষীদের শাস্তির দাবি করেছি।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, নিহত সোহাগের পরিবারের সদস্যরাও এজাহারে নাম থাকা কয়েকজনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন, এমন তিনজনের নাম এজাহারে যুক্ত হয়েছে। অথচ প্রকৃত অপরাধীদের এখনো চিহ্নিত করা হয়নি এবং তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।

ফখরুল বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের কাউকেই এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতিও নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, এই ইস্যুতে বিএনপির স্পষ্ট অবস্থান থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, শালীনতা ও চরিত্রহননের চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে সংঘাত-উসকানিতে না পা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সোহাগ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আরো..