https://www.a1news24.com
২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:২৭

সরকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করেছে: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে সরকার তিন দেশের সমর্থন আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন সরকার নিজ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে আদায় করেছে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইমলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সিরাজুল ইসলাম, আবুল খায়ের ভুইয়া, তাহসিনা রুশদির লুনা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

দেশের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, অসম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নামমাত্র মূল্যে ট্রানজিট সুবিধা, পানি সমস্যার সমাধানহীনতা, গোপন আদানি চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী অজস্র প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক লবিং, যার প্রমাণস্বরূপ শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি সারা জীবন মনে রাখবে’ এবং ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় ভারতই আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছিল’।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ৭ জানুয়ারি যে প্রহসনমূলক ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার উদ্দেশ্য জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা বা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল না। বরং নির্বাচনের নামে এটি ছিল জাতির সঙ্গে একটি সহিংস প্রতারণা, যার উদ্দেশ্য অবৈধ, অনৈতিক ও অসাংবিধানিকভাবে সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা। ডামি প্রার্থী, দল, ভোটার ও পর্যবেক্ষকের সমন্বয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে গণবিদ্বেষী সরকার যে দুর্নীতি-দুঃশাসন ও দমন-দুর্বৃত্তায়ন চালিয়েছে, সমাজের প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ তাতে বৈষম্য, অবিচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগ ও তার সুবিধাভোগী দোসররা আরো একবার জোরপূর্বক ভোটাধিকার হরণ করায় বাংলাদেশের জনগণ ব্যথিত, মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ। এ জনরোষ আবারো প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুধু গণবিরোধীই নয়, এটি পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ ও অন্তঃসারশূন্য।

এর আগে গেলো ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয় ২৯৯ আসনে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, ১৪ দলীয় শরিক জাসদ একটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, কল্যাণ পার্টি একটি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ১১টি আসন পেয়ে আবারও প্রধান বিরোধী দল হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২টি আসন পান স্বতন্ত্র এমপিরা।

এ নির্বাচনকে বানরের পিঠা ভাগের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ হাজারও কর্মী এখন কারাগারে রয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ নেতা বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি মোকাবেলা করছে সহিংস সশস্ত্র শেখ হাসিনার সরকারকে। প্রতিদিন পুলিশি নির্যাতন ও বিচার বিভাগের অবিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিএনপিকে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরছাড়া করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পরাজয়ের ভয়ে বিএনপির ওপর হামলা নির্যাতন করছে।

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় হতো এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব সরকারকেই আরও মারমুখী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ভারতের সীমান্তে হত্যা অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে সৃষ্ট সংঘাতে বাংলাদেশ এখন ক্রসফায়ারে উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অসম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত সরকার।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিএনপির ক্ষমতার উৎস দেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ বিদেশি শক্তিতে টিকে আছে। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ফ্যাসিবাদের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। বিদ্যমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে এর দায় সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি‌।

এ নেতার অভিযোগ, সরকার‌ মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করছে। সরকারের ব্যর্থতায় বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়ছে। উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের নেতারা। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজার, সরকারের ভ্রূক্ষেপ নেই।

ব্যর্থতা দূরে রাখতে সরকার নিজেরাই বাহিরের শক্তিকে নিয়ে কোনো পরিস্থিতি তৈরি করছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে আছে, শিগগিরই দলের গতি প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হবে।

আরো..