https://www.a1news24.com
১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:৩৫

শ্রীপুরে পরিবহন শ্রমিকদের মারধর ও চাঁদাদাবী, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

টি আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদাদাবী, পরিবহন ভাংচুর, রাতের আঁধারে বাস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও হেলপারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেড় ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে প্রভাতি-বনশ্রী পরিবহনের শ্রমিকেরা। এসময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট আটকা পড়ে অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সোমবার (২ মে) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টা মহাসড়কের উপজেলার জৈনাবাজারে সড়ক অবরোধ করে তারা।

প্রভাতি-বনশ্রী পরিবহনের ব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ অভিযোগ করেন, রবিবার (১ জুন) দিবগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমেদ ও তার ১৫/২০জন সহযোগী জৈনাবাজারের পশ্চিমে প্রভাতি-বনশ্রী পরিবহনের স্ট্যান্ডে এসে দুইটি বাস ভাংচুর করে শ্রমিকদের মারধর করে আহত করে। প্রতি গাড়ি থেকে ৫০০/১০০০ টাকা হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে রাতে বাসে আগুন দিয়ে আমাদেরকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয়। আমাদের অনেক স্টাফ বাসেই রাতযাপন করে থাকে। তাদের হুমকিতে আমরা ভয়ে আছি। আহতরা হলো বাস চালক সুজন (৩০), মানিক মিয়া (৩০), হেলপার (চালকের সহকারী) মনির হোসেন (২৩), আল আমিন (২২), নজরুল ইসলাম (৩৩), রুবেল (২৩), শাহীন (২১), ফরিদ হোসেন (২৩), রেজাউল (৩০), সাব্বির (২২), রনি (৩০) এবং সোহেল (৫০)। তারা প্রত্যেকেই স্থানী বিভিন্ন ফার্মেসী থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসময় প্রতিবাদ করায় ওই পরিবহনের হেলপার (চালকের সহকারী) আরিফ হোসেনকে তারা ধরে নিয়ে যায়। এখনো ওই হেলপার তাদের কাছে রয়েছে। চাঁদাদাবী, পরিবহন ভাংচুর, শ্রমিকদেরকে মারধরের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং হেলপার আরিফ হোসেনকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবীতে পরিবহণ শ্রমিকেরা সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে এলাপাতাড়ীভাবে বাস রেখে সড়ক অবরোধ করে। পরে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে হেলপারকে উদ্ধার এবং তাদের বিচারের আশ^াস দিলে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে সাড়ে ৯টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অভিযুক্ত ফাহিম আহমেদ উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে ওই ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবিষয়ে তারকোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এমসি বাজার এলাকার রিদিশা পোশাক কারখানার শ্রমিক রেজাউল করিম বলেন, বাস শ্রমিকেরা সকাল থেকে মহাসড়কে তাদের যানবাহন এলাপাতাড়ীভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এত করে আমরা যারা পোশাক কারখানায় চাকরি করি তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। এক মিনিট লেট করে অফিসে প্রবেশ করলে আমাদের হাজিরা ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয়। মাসের ৫ থেকে ৬ দিন কোনো না কোনো কারণে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা এবং সংগঠনের কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে এত করে আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়।

জৈনা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ছলিম উদ্দিন বলেন, প্রায়ই মহাসড়ক অবোরধের ঘটনা ঘটে। কখনো পোশাক শ্রমকি, কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, কখনো বাস শ্রমিকেরা তাদের দাবী দাওযা নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এত করে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, আশপাশের স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং পোশাক শ্রমকিসহ বিভিন্ন অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে গন্তব্য যেতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর শহরের একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, আমাকে প্রতিদিন জৈনাবাজর থেকে গাজীপুরে গিয়ে অফিস করতে হয়। আসা-যাওয়ার পথে মাসের ১০ থেকে ১২ দিন এই মহাসড়কের কোথাও না কোথাও সড়ক অবোধের ঘটনা ঘটে। এতে করে যেমন আমাদের সময় নষ্ট হয় তেমনি লেট হয়ে গেলে অফিসের সিনিয়রদের কথা শুনতে হয়। আমরা আছি মহা বিপদে। কোনো কিছু দাবী উঠলেই সবাই মহাসড়কে এস অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। যেন কারো কিছু বলার নেই। যে যার মতো করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিচারের আশ^াস দিলে বাস শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহন চলাচল স্বাভবিক হয়।

আরো..