টি.আই সানি,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ জমিতে চারা রোপণ করা নিয়ে মারামারির ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জমির মালিক তানভীর ও তার মা রাতা বানুকে সাথে নিয়ে ক্রয় কৃত ১৪ শতাংশ জমিতে আকাশ মনি চারা রোপণ করতে গেলে রুবি আক্তার নামে এক নারী তাদের কাজে বাধা দেয়ে। এনিয়ে দুই পক্ষে মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় মারামারি শুরু হয় এতে নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রথমিক চিকিসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজ মাওনা গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ তানভীর আহাম্মেদ দুই জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর মডেল থানরা অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোক্তরা হলেন নিজমাওনা গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিন ছেলে মোঃ জুলহাস মুন্সি (৫৫) ও মেয়ে মোছাঃ রুবি আক্তার (৪৫)। থানায় লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মৃত আফাজ উদ্দিনের দুই ছেলে আলফাজ উদ্দিন ও রফিজ উদ্দিনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি সাবকবলা মূলে ক্রয় করেন নিজ মাওনা গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম,তাজুল ইসলাম প্রবাসে থাকাার কারনে ওই জমি দেখা শোনা করে তারই ভাই মোঃ তানভীর আহাম্মেদ।
তানবীর আহম্মেদ জানান, আমি জমিতে চারা রোপন করিলে বিবাদীদ্বয় তাহার নষ্ট করিয়া ফেলে। ৫ আগস্ট দুপুর অনুমান ১২টার দিকে আমি সহ আমার বৃদ্ধ মা মোছাঃ তারা বানু (৬০) আমাদের ক্রয়কৃত জমিতে পরিছন্নতার কাজ করিতে থাকাবস্থায় রুবী ও তার ভাই জুলহাস মুন্সিসহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজন জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে আমাকে ও আমার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে । একপর্যায়ে স্বজোরে আমার বাম কানে ঘুষি মারিয়া গুরুতর জখম করে এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই। তখন আমার মা আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করিলে রুবী আমার মায়ের চুলের মুঠোয় ধরিয়া টানা হেচড়া করে । আমি গুরুতর জখম প্রাপ্ত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই ২ ঘণ্টা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকি । আমার মা ডাকচিৎকার শুরু করিলে রুবী আমার মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জমিতে থাকা দা (আমরা পরিছন্নতার কাজে নিয়ে আসছিলাম) সেই দা রুবী হাতে নিয়া অপেক্ষা করে এবং এই বলিয়া হুমকি প্রদান করে যে, আমাকে রক্ষা করার জন্য কেউ আগাইয়া আসিলে কোপাইয়া হত্যা করিবে। এ ঘটনা দেখিয়া আশপাশের লোকজন ঝরো হতে থাকিলে জুলহাস মুন্সি ও তার বোন রুবী এবং অজ্ঞাত নামা ৪/৫ চলে যায় । যাওয়ার পূর্বে এই হুমকি প্রদান করে যে, আমি কিংবা আমার লোকজন যদি জমিতে কোন কাজ কর্ম করি কিংবা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করি তবে আমাদেরকে জমিতেই হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া দিবে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রীপুর, গাজীপুর জরুরী বিভাগে নিয়া আসিলে কর্তব্যরত ডাক্তার রেজিঃ মূলে আমার জখমের চিকিৎসা করেন । আমার জ্ঞান ফিরে আসলে মাতার নিকট বাকি ঘটনার বিস্তারিত শুনি। আমি চিকিৎসা গ্রহণ করিয়া জুলহাস মুন্সি ও রুবীসহ অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের লক্ষ্যে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমি এর সঠিক বিচার চাই। এর আগেও ২৫ অক্টোবর ২০২৪ সালে আমাকে মারধোর করে এবং আমার এই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়ে জমি দখল করে নিতে চায়।
জুলহাস মুন্সি বলেন তাদের পিতার মৃত্যুর পরে বোনের পাওনা সম্পত্তি ভাগ করে দেন বোনকে। তবে একটি জমিতে শরিকানা নিয়ে আগে থেকে ঝামেলা লেগে ছিল। আমি এবং আমার বোন রুবী তানভীরকে বার বার না করার পরও সেই জমি তানভীর গোপনের কিনে নেন আমার অন্য ভাইদের কাছ থেকে। আমার জমি বুজিয়ে দিওয়ার পরে তাদের জমি বিক্রি করুক তাতে আমার কোন আপত্তি নাই। তানবীর জমি কিনেছে আমার অন্য ভাইদের কাছথেকে জমি তারা বুঝিয়ে দিবে ।
রুবী আক্তার বলেন, আমার বাবা মৃত্যুর পরে ভাইদের কাছ থেকে আমার ভাগের সম্পত্তি বুঝে নেই। কিন্ত ভাইদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি হয়নাই কাজেই যে জমিটুকু তানভীর কিনেছে ওই জমির কিছু অংশ আমার বড় জুলহাস মুন্সির মালিকানা রয়েছে। ওই জমি বুঝিয়ে দিয়ে তাদের জমি তারা সেফারেট করে নিয়ে যাক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। আর মারামারি যে বিষয় আমাকে মারতে আসলে আমি তানভীরকে একটা থাপ্পর দিয়েছি তেমন কোন বড় ধরনের মারামারি হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্তলে পুলিশ গিয়ে পরিদর্শন করে আশার পর ঘটনার সত্যতা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।