স্পোর্টস ডেস্ক: আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে হংকংয়ের পরাজয়ের পর, তেমন কোন আশা ছিল না যে তারা শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে এক চমকপ্রদ লড়াই উপহার দিতে পারবে। তবে ম্যাচ শেষে দেখা গেল, হংকং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হেরে গেলেও লড়াইটা করেছে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। হংকং যদি ৬টি সহজ ক্যাচ না ফেলত এবং ইয়াসিম মুর্তজা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নো বল না করতেন, তবে দৃশ্যপট হয়তো অন্যরকম হতে পারতো।
প্রথমে ব্যাট করে হংকং ২০ ওভারে ১৪৯ রান তোলে, যেখানে অনুশমান রাঠ ৪৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এবং নিজাকাত খান ৩৮ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বল হাতে হংকং শ্রীলঙ্কাকে শুরু থেকেই চাপে রাখে। কখনওই চড়ে বসে ব্যাটিং করার সুযোগ পায়নি লঙ্কানরা। অধিনায়ক ইয়াসিম মুর্তজা ও অফস্পিনার ইহসান খান মিলে তিনটি উইকেট তুলে নেন এবং শ্রীলঙ্কা এক পর্যায়ে ১২৭ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। তখন শ্রীলঙ্কার জন্য দরকার ছিল আরও ২২ রান।
তবে এরপরই ইয়াসিম মুর্তজা একটি নো বল করে বসেন, আর তা থেকেই লঙ্কানদের জন্য ছক্কায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা। একদিকে ফিল্ডিংয়ের মারাত্মক ভুলও হংকংয়ের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তারা অন্তত তিনবার নিসাঙ্কাকে জীবন দিয়েছে এবং কুশল পেরেরাও ক্যাচ ফেলে দেন। নিসাঙ্কা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৪ বলে ৬৮ রান করেন যা শ্রীলঙ্কাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
শেষ দিকে হাসারাঙ্গা ৮ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন। হংকংয়ের বোলাররা ডেথ ওভারে একের পর এক ভুল করে বসেন। সুযোগ তৈরি করেও তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারেনি তারা। তাই তাদের এশিয়া কাপটা শেষ করতে হলো একরাশ আফসোস নিয়েই।
এই জয়ের পর শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরে এক পা দিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে লঙ্কানরা। দ্বিতীয় স্থানে আফগানিস্তান, তাদের পয়েন্ট ২ এবং রান রেট ৪.৭০০। তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ, তাদেরও ২ পয়েন্ট তবে রান রেট -০.৬৫০। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ যদি পরাজিত হয় তবে তাদের এশিয়া কাপে বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে।