https://www.a1news24.com
২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:১৭

রকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত, বাজে কথা না লেখার আকুতি মাহির

নিজস্ব প্রতিবেদক: আড়াই বছরের বিবাহিত সম্পর্কের ইতি টেনে চলচ্চিত্রে ফেরার ঘোষণা দিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।শুক্রবার রাতে ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রকিব সরকারের সঙ্গে আর থাকছেন না। দুজন আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিশুসন্তান মোসাইব আরোশ সামসুদ্দিন ফারিশ সরকারকে নিয়ে বাজে কথা না লিখতেও আকুতি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বলেছেন, এসব বাজে কথা তাকে ‘তীরের মতো বিদ্ধ করে।’২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রকিব সরকারকে বিয়ে করেন মাহি। ফারিশ নামে তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

“দুজন মানুষ কেন একসঙ্গে থাকতে পারল না, কেন সংসার ভাঙে, এসব তো আমরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বুঝব না”, ফেইসবুকে বাজে কথা না লেখার অনুরোধ করে বলেন এই অভিনেত্রী।

এর আগে ২০১৬ সালে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন মাহি। ২০২১ সালের ২২ মে পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিয়ে করেন গাজীপুরের ব্যবসায়ী রকিব সরকারকে।

ভিডিও বার্তায় মাহিয়া মাহি বলেন, “এরকম একটি বিষয় নিয়ে আমাকে এই ভিডিওটা করতে হবে, আমি ভাবি নাই। দুজন মিলেই আসলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

রকিব সরকারকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “সে পরোপকারী একজন মানুষ। সে খুবই কেয়ারিং একজন মানুষ। যে কদিন একসঙ্গে থেকেছি সে আমার অনেক যত্ন করেছে। আমার ফ্যামিলিকে অনেক সম্মান করেছে।”

তাহলে কেন বিচ্ছেদ, সে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মাহি বলেন, “দুজন মানুষ কেন একসঙ্গে থাকতে পারল না, কেন সংসার ভাঙে, এসব তো আমরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বুঝব না। আমিও আপনাদের পারসোনালি চিনি না, আপনিও আমাকে পারসোনালি চেনেন না।”

মাহি বলছেন, তিনি ও রকিব সরকার দুজন দুজনকে সম্মান জানিয়েই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেক দিন ধরেই তারা আলাদা থাকছেন।

“এখন আমরা দুজন মিলে ঠিক করব, কীভাবে এটা শেষ হবে! আমি তাকে অনেক সম্মান করি, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নাই।”

রকিব সরকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রকিবকে বিয়ে করার পর রাজনীতিতে যুক্ত হন মাহিও। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতেও চেয়েছিলেন, তবে মনোনয়ন পাননি। পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান এবং দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রাজশাহী-১ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি ৯ হাজারের বেশি ভোট পান।

ছেলের জন্য আকুতি

ভিডিওতে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে মাহি বলেন, “এই ভিডিও দেখার পর আপনারা হয়ত অনেক বাজে বাজে কমেন্ট করবেন। আপনাদেরই এই কমেন্টগুলা একটা তীরের মতো বিঁধবে।

“আপনারা, সবাই নয়- গুটিকয়েক মানুষ হয়ত উল্টাপাল্টা কমেন্ট করেন। আমি কষ্ট পাই। আমার পরিবারের সদস্যরা কষ্ট পান।”

ফেইসবুকে বাজে কমেন্ট না করার অনুরোধও জানান তিনি। বলেন, “আমি যখন আমার কলিজার টুকরা ফারিশকে নিয়ে কোনো ছবি দিই, আপনার কেউ কেউ বাজে কমেন্ট করেন, আমার কলিজা ফেটে যায়।

“ও তো বাচ্চা, হয়ত বুঝে না। আমি ওর মা হিসেবে কলিজা ফেটে যায়। কোনো বাচ্চাকে নিয়েই লিখেন, সেই বাচ্চাটা যেমনই হোক, বাচ্চাটা তো ফেরেশতা।”

সবার কাছে হাত জোড় করে মাহি বলেন, “আপনারা আমার আর ফারিশের জন্য দোয়া করবেন। আমার এখন অনেক দায়িত্ব। এই দুইটা বছর আমি কোনো কাজ করি নাই। আমি আমার প্রফেশন থেকে অনেক দূরে। আমি এখন কাজ শুরু করব।

“আমার লাইফে এখন অনেক যুদ্ধ। আমার বাচ্চাটা বড় হবে, ওর জন্য আমার অনেক কিছু করার আছে। সবাই দোয়া করবেন, ফারিশকে নিয়ে আমার চলার পথটা যেন মসৃণ হয়। একটাই অনুরোধ করব, প্লিজ বাজে কথা লিখেন না।”

এ বিষয়ে জানতে মাহি এবং রকিব সরকারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ ফোন ধরেননি।

রাজশাহীর মেয়ে মাহির সিনেমায় অভিষেক ২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ‘ভালোবাসার রং’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।

এরপর ‘অগ্নি’, ‘কী দারুণ দেখতে, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘অনেক সাধের ময়না’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘লাইভ’ এর মতো বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল সিনেমার নায়িকা হন তিনি।

আরো..