https://www.a1news24.com
২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৯

মার্কিন প্রতিনিধিদের থেকে যা চেয়েছিল তা না পেয়ে চুপ বিএনপি: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্য বাড়লেও জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আছে। সামনের রমজানেও জিনিসপত্র এভেইলেবল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “অর্থনীতিতে যখন সংকট তখন দ্রব্যমূল্য বাড়া স্বাভাবিক। তবে আপনাদের তো না খাইয়ে রাখিনি।”

মঙ্গলবার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে চাঁদাবাজির একটা বিষয় অবশ্যই আছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন বক্তব্য দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে বলেছেন। একটা বিষয় শুরু হলে রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সবাই নড়েচড়ে বসেছে এবং যার যে দায়িত্ব আছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তা পালন করছে। দ্রব্যমূল্য এমন একটা বিষয়, যখন অর্থনীতিতে সংকট তখন দ্রব্যমূল্য বাড়া স্বাভাবিক। অর্থনীতিতে যখন সংকট হবে তখন দ্রব্যমূল্য, বাজার ওঠানামা করে। এটা বাজারের ধর্ম। অপেক্ষা করেন, আপনাদের তো না খাইয়ে রাখিনি, দেশের মানুষ খেতে পাচ্ছে। একটা মানুষও না খেয়ে মরেনি। দেশের মানুষ অনেক ভালো আছে।”

দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদের দেশের জনগণ প্রমাণ করেছে তারা এতো উসকানি, এতো আন্দোলন যে বাংলাদেশ উত্তাল সাগর হয়ে যাবে, এসবের পর তাদের ঐ পিকনিক পার্টি সমাবেশের নামে সেখানে জনগণ প্রলুব্ধ হয়নি। প্ররোচিতও হয়নি। দেশের জনগণ সারা বিশ্বের খবর রাখে। সারা বিশ্বের সব খবর নিয়ে গ্রামে চায়ের দোকানে রীতিমতো গবেষণা হয়। মানুষ বুঝে এখানে সরকারের দোষ নেই। বিশ্বে যে সংকট দ্রব্যমূল্য নিয়ে, সে দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশের একার নয়। সারা দুনিয়াতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পৃথিবীর একটা দেশ দেখান যেখানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তবে আমাদের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আছে। আমরা আশা করি সামনের রমজানেও জিনিসপত্র এভেইলেবল থাকবে।”

মার্কিন প্রতিনিধিদলের থেকে যা চেয়েছিল, তা না পাওয়ায় বিএনপি চুপ করে আছে বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায়, ওয়াশিংটনের কাছে যা চায় সে চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তারা শুনতে চেয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসবে, অথবা ভিসানীতি প্রয়োগ হবে। এমন একটা স্বপ্ন নিয়েই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করতে গেছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদল যা বলে গেলেন, তাতে বিএনপির আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। সরকারের পতন, সরকারের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এ ধরনের কিছু তারা মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে খুঁজে পায়নি। সে কারণে চুপ করে থাকার কৌশলটাই বেছে নিয়েছে।’

সরকার নতুন করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তার এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বাস্তবতা কতট অসাড়, ফখরুল-খসরুসহ তাদের কত নেতাকর্মী মুক্তি পেয়েছে। এ সময় আবার মামলা দিচ্ছে বলে ওরা আসলে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছে। সরকারের বিরুদ্ধে বলার জন্য বলতে হবে, বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করতে হবে সে কারণে তারা এমন মিথ্যাচার করছে।’

‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই তো জেলে ছিলেন, তাদের তো অনেক নেতাকর্মী মুক্তি পেল, নতুন করে কে এরেস্ট হলো? তাহলে কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।-বলেন কাদের।

মার্কিন প্রতিনিধিদল বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করেনি এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা নিয়ে রাজনৈতিক কোনো ক্রাইসিস আছে? এখন কি রাজনৈতিক কোনো ক্রাইসিস আছে? বিএনপির সঙ্গে কেন বৈঠক করেছে এটা তাদের জিজ্ঞেস করুন। তারা মূলত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এসেছিল। সেজন্য সে বৈঠক তো আর দলের সঙ্গে করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টার সঙ্গে, পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আমি তো মনে করি এই সফরে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বৈঠক করতে কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

আরো..