https://www.a1news24.com
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৪৭

ভোটের মাঠে রক্তের ছাপ, বাড়ছে সংঘর্ষ বাড়ছে গণআতঙ্ক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর সেই উত্তেজনা এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জনসভা, গণসংযোগ কিংবা সাধারণ নির্বাচনী কর্মসূচি— সবখানেই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

রক্তাক্ত নির্বাচনী মাঠ

গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। একই দিন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া, গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সর্বশেষ গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলী নাছের খানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এনসিপি নেতারা। একই ঘটনায় এনসিপির গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনা সাম্প্রতিক সহিংসতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশে আরও তিনটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে ২৫টি জেলা এবং তিনটি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

পরিসংখ্যানে সহিংসতার চিত্র

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে চারটি, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ৫৫টি, প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ছয়টি, ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ১১টি, প্রচারে বাধা প্রদান ১৭টি, নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ আটটি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দুটি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ একটি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন ছয়টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন ১০টি এবং অন্যান্য ঘটনা হয়েছে ২৪টি। সর্বমোট ১৪৪টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যমতে, ২৫টি জেলা এবং তিনটি মহানগরে সহিংসতার বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলা সবচেয়ে বেশি সংঘাতপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রচারণায় বাধা, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ এবং প্রার্থীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা পরিবেশকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনাও ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে

আরো..