https://www.a1news24.com
১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:১০

ভেজাইল্যা সুলতান ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের

ষ্টাফ রিপোর্টার ঃ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ সুলতান মাহামুদ ও সাহাবুদ্দিন সংঘবদ্ধভাবে সিন্ডিকেট তৈরি করে নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি করছে। এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের অব্যাহত হুমকিতে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নারায়ণগঞ্জ সদর আমলী আদালতে চিহ্নিত দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে। যার সিআর মামলা নং- ২৩৫/২৬।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ডিআইট মসজিদ মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন দীর্ঘদিন যাবত টুপি, জায়নামাজ ও ইসলামিক সামগ্রী বিক্রি করে আসছিলো। এর মধ্যে ফতুল্লা থানার জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার ভাড়াটিয়া মৃত চাঁনমিয়া সরকারের ছেলে সুলতান মাহামুদ (৫৬) তার দলবল নিয়ে গত বছরে আকরাম টুপি হাউজে গিয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বিকার করলে আকরামকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। সম্প্রতি চাঁদার টাকার জন্য আবারও সুলতান ও সাহাবুদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময় রাস্তা ঘাটে আকরামকে গালিগালাজ ও অহেতুক হয়রানি করে আসছিল। দ্রুত ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা না দিলে আকরামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিবে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন থানায় এবং আদালতে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করারও হুমকি প্রদান করে। যার ফলে নিরীহ আকরাম কোন উপায়ন্তর না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও এসপির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জ সদর আমলী আদালতে চাঁদাবাজ সুলতান মাহামুদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৪৩/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩৮৫ / ৩৭৯/ ৫০৬ (২) দন্ডবিধি ধারায় একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছে।

আরও জানা যায়, ফতুল্লা থানার শিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুল বাতেন ডিলারের ছেলে সাহাবুদ্দিন (৪৯) মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করে এবং বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করে চাঁদার জন্য। মূলত সাহাবুদ্দিন একজ মাদকাসক্ত বাটপার। বর্তমানে আসামীরা মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্ন উপায়ে চাপ প্রয়োগ করে হুমকি ধামকি দিচ্ছে এবং নির্ধারিত চাঁদাসহ আরও অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করছে বলে জানা গেছে। যার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন উক্ত চাঁদাবাজদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। উল্লেখ্য যে, ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ ও মাদকাসক্ত সাহাবুদ্দিন বেশ কয়েকবার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় জেল হাজতবাস করেছে। জামিনে বেড়িয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং চাঁদাবাজির নেশায় মেতে উঠে।

আরো..