নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোনো ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন) ব্যবহার করবে না। সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনের জন্য সারাদেশে বাহিনীটির ৩৭ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রস্তুত থাকবে কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং হেলিকপ্টার ইউনিট।শনিবার মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম আবুল এহসান এ তথ্য জানান।
কর্নেল এসএম আবুল এহসান বলেন, “দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলা ভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ঢাকা সেক্টরের অধীনস্থ ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৯টি জেলা এবং চারটি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে সর্বমোট ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও, বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবি’র বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েন থাকবে।”
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের বিজিবি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তথা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বিজিবি প্রস্তুত। ভোটাররা যেন ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যদেরকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা যে কোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও নির্বাচনকালীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে যে কোন মুহুর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিজিবি সক্ষম।”
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার ও দ্বায়িত্ব পালন সম্পর্কে জানিয়ে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বলেন, “নির্বাচনে বিজিবি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি, আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করবে, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
কর্নেল এসএম আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে কোনো মহল নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।”
আপনারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহড়া ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছেন কি না জানতে চাইলে কর্নেল আবুল এহসান বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের মহাপরিচালকের নির্দেশ, আমরা নির্বাচনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লিথাল ওয়েপন (প্রাণঘাতি অস্ত্র) ব্যবহার করব না।”
দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
কোনো হটলাইন নম্বর ব্যবহার করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের যেসব বেস ক্যাম্প রয়েছে সেগুলোর মোবাইল নম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষা অ্যাপ রয়েছে, সেখানেও অ্যাপসের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।”