https://www.a1news24.com
৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:১২

ঢাকাস্থ জামালপুর জেলা উলামা পরিষদের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের কো-চেয়ারম্যান আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে ছাত্রদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে। মাদরাসা ছাত্ররা জুলাই বিপ্লবে জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে লড়াই করে ৮০ জন শাহাদাত বরণ করেছেন। মোদি বিরোধী আন্দোলনেও ২০জন শহিদ হয়েছেন। ১৩ সালে শাপলার আন্দোলনেও অগণিত ওলামায়ে কেরাম জীবন দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত এবং ইসলামের বাংলাদেশ। এদেশ আমাদের সকলের। এদেশকে সাজানোর এবং গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের। তিনি জামালপুর জেলা উলামা পরিষদের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেন। সেইসাথে তাদের মত বিভিন্ন জেলা শাখাও যেন উৎসাহমূলক কর্মসূচি হাতে নেয় এ আহ্বান জানান।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে শনিবার সন্ধায় ঢাকাস্থ জামালপুর জেলা উলামা পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান মেহমানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মুফতি কাজী মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি বাকি বিল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জিয়াউল আশরাফের যৌথ সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি সিদ্দিকুর রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জনাব একেএম ইহসানুল হক মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, বারিধারা মাদরাসার মুঈনে মুফতি জাবের কাসেমী, বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদের মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা। বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরফানুর রশিদ বাদল, আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, আলহাজ্ব হযরত আলী, মুফতী আব্দুল হামীদ খান ভাসানী, মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী, মুফতি ক্বারী ফরহাদ হোসেন, মুফতি শফিউল্লাহ সাদ, মুফতি জাহিদুল ইসলাম, মুফতি শরিফুল ইসলাম জামালী, হাফেজ মাওলানা আলী আকবার।

সাবেক সচিব জনাব একেএম ইহসানুল হক মঞ্জু বলেন, আজ একটি বিষয় খুব জোড়ালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। আর তা হচ্ছে দুর্নীতি, দেশের টাকা পাচার হওয়া, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। আর এর একটির সাথেও মাদরাসা ছাত্র ও শিক্ষকরা জড়িত নয়। এজন্য আলেমগণ যদি এগুলোর প্রতিবাদ করেন কিংবা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তাহলে সন্ত্রাস ও চাঁদাজি থাকবে না। এ জন্য আমাদেরকে প্রতিবাদ করতে হবে।মাওলানা আতাউল্লা আমীন বলেন, মাদরাসার ছাত্ররা আজ সর্বক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি প্রার্থীদের ২০জনই মাদরাসা ছাত্র।

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য ধরে রেখেছেন কওমী শিক্ষার্থীরা। সেইসাথে দেশ ও ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের সর্বপ্রথম যারা প্রতিবাদ করেন, তারা হলেন মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকগণ। আগামীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীণ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ছাত্রদের অবদান রাখতে হবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বাকিবিল্লাহ সংগঠনের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং কৃতি শিক্ষার্থীসহ বিধবাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ডেঙ্গু থেকে রক্ষায় জামালপুর এবং ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মশারী বিতরণ কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

আরো..