https://www.a1news24.com
২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৩২

জালালাবাদ কলেজ অধ্যক্ষের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল বাকী চৌধুরীর বিদায় সবংর্ধনা উপলক্ষ্যে জিন্দাবাজারের এক অভিজাত হোটেল হলরুমে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ: হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জির সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এ সংবর্ধনা অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিসিকের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। কলেজে কো-অর্ডিনেটর ও সহকারী অধ্যাপক ছায়েম আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সংবর্ধনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদায়ী অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল বাকী চৌধুরী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রফেসর চৌধুরী ১৯৭১ সালের প্রারম্ভে চট্রগ্রাম সরকারী মহসিন কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারী কলেজে (সাবেক সরকারী এম.সি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ) দশ বছর এবং ১৯৮০ সাল থেকে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে আরো দশ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৯ সালে জকিগঞ্জ সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হন। পরের বছর থেকে সিলেট সরকারী কলেজে চার বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। কৃতিত্বের সাথে এ দায়িত্ব পালনশেষে সরকার সন্তুষ্টির সাথে আরো এক বছর এ দায়িত্বের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। ২০০৭ সালে জালালাবাদ কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই সময়ে বোর্ড পর্যায়ে ০২ বার জালালাবাদ কলেজ সেরা দশের মর্যাদা অর্জন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট নগরী ও পাশ্ববর্তী চল্লিশাধিক হাইস্কুল ও কলেজের প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমন্ত্রিত অতিথি ও সূধীবৃন্দের মিলনমেলায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এর উপর অতীব গুরাত্বারোপ করেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদেরকে নেতিবাচক দিকের উপর কড়াকড়ি আরোপে হিতে বিপরীত হতে পারে বিধায়; তথ্য প্রযুক্তি তথা মোবাইল ও ইন্টারনেটের উপকারী, গঠন ও শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার উদাত্ত আহবান জানান। তিনি সিলেট বিভাগে শিক্ষা উন্নয়নে অধ্যক্ষ প্রফেসর বাকী চৌধুরীর অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জালালাবাদ কলেজর সংবর্ধিত বিদায়ী অধ্যক্ষ তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ বছরের শিক্ষকতা জীবন ও শিক্ষা প্রশাসনিক অভিজ্ঞার উপর মূল্যবান স্মৃতি চারণ করেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ২য় চেয়ারম্যান ও ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক চৌধুরী উপস্থিত হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র বিভাজন সঠিক নয়। শিক্ষকদের সিনিয়র লার্নার ও শিক্ষার্থীদের জুনিয়র লার্নার অভিহিত করে সিলেট বিভাগের প্রতিথযশা এ শিক্ষাবিদ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে আধুনিক অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান। তিনি এ সবংর্ধনা অনুষ্টানের আয়োজক জালালাবাদ কলেজ কর্তৃপক্ষ, ট্রাস্টি বোর্ডর চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্টদের নিকট নিজেকে ঋণী বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল হক চৌধুরী এম.সি কলেজে নিজের শিক্ষকতা জীবনে প্রফেসর বাকী চৌধুরীর সহকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগকে অত্যন্ত মূল্যবান সময় আখ্যায়িত করে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সুদীর্ঘ ৫২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের অধিকারী প্রফেসর বাকী চৌধুরী অবসর জীবন সুস্থ ও মঙ্গলময় কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জালালাবাদ কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ: হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি উপস্থিত শিক্ষক ও সূধীজনকে ধন্যবাদ জানান। প্রফেসর বাকী চৌধুরীকে এম.সি কলেজে শিক্ষকতা জীবনে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ায় তিনি নিজেকে কৃতার্থ মনে করেন। জালালাবাদ কলেজকে অধ্যক্ষ প্রফেসর বাকী চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সিলেটের শিক্ষা উন্নয়নের বাতিঘর জালালাবাদ কলেজকে প্রাইভেট কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থানে উন্নীত করণে তিনি সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

এ অনুষ্টানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উইজডম ট্রাস্টের সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ, কবি আবুল কালাম আজাদ, সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মাহমুদুল হাসান, জালালাবাদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: হাসমত উল্লাহ ও সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেট এর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: দিদার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আয়েশা বেগম এবং সাবেক বাংলা বিভাগের প্রধান, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুশ শাকুর ও রসায়ন বিভাগের প্রধান মুহা: আবু সাঈদ।

বিশিষ্ট ক্বারী মাওলানা আব্দুল হাই’র পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেন জীব বিজ্ঞানের প্রভাষক তাহসিন সিদ্দিকা। কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক জনাব সালমা, ফাহিমা সুলতানা চৌধুরী, ফারুক আহমদ, মেহেদী হাসান জাবেদ, মো: নজরুল ইসলাম, ফরীদ আহমদ, সাজিদুর রহমান মুরাদ প্রমূখ।

আরো..