https://www.a1news24.com
১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৯

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত, জাতিসংঘের নিন্দা

নিউজ ডেস্ক: “ইসরায়েল সরকার আসলে গাজার ভেতর থেকে সংবাদ পরিবেশন বন্ধে সব চ্যানেলকে চুপ করাতে চায়,” বলছেন আল জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।

গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।নিহতরা হলেন- প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ ও মোহাম্মদ কুরেইকেহ এবং চিত্রগ্রাহক ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মুয়ামেন আলিওয়া।

গাজা সিটিতে আলজাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক। একই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন মিশন।এক বিবৃতিতে ডুজারিক বলেন, আমরা আলজাজিরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আজ গাজায় যা ঘটেছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।

তারা সবাই হাসপাতালের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি এক তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তাঁবু নিশানা করেই হামলা চালানো হয়।সংবাদমাধ্যমটি এক বিবৃতিতে বলছে, এই ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আরেকটি স্পষ্ট ও পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ।

হামলার কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রাম পোস্টে আনাস আল-শরীফকে নিশানা করে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে। আইডিএফের ভাষ্য, শরীফ হামাসের একটি সন্ত্রাসী সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে হামলায় নিহত অন্য সাংবাদিকদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ।আল জাজিরা জানিয়েছে, এ হামলায় মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। শুরুতে সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের চার কর্মীর মৃত্যুর কথা দিলেও পরে তা বেড়ে পাঁচজন হয়।

আল জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ মোয়াওয়াদ বিবিসিকে বলেন, আল-শরীফ একজন স্বীকৃত সাংবাদিক ছিলেন এবং গাজায় কী ঘটছে তা বিশ্বকে জানানোর ‘একমাত্র কণ্ঠস্বর’ ছিলেন।

যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। এ কারণে অনেক সংবাদমাধ্যম গাজার স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে খবর প্রকাশ করে।মোয়াওয়াদ বলেন, “তাদের তাঁবুকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছে, তারা তখন ফ্রন্টলাইনে কাজ করছিলেন না।”

তিনি দ্য নিউজরুম প্রোগ্রামকে বলেন, “ইসরায়েলি সরকার আসলে গাজার ভেতর থেকে সংবাদ পরিবেশন বন্ধে সব চ্যানেলকে চুপ করাতে চায়। আধুনিক ইতিহাসে এমনটা আগে কখনো দেখিনি।”

২৮ বছর বয়সী আল-শরীফ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও এক্স পোস্টে গাজা সিটিতে ইসরায়েলের তীব্র বোমাবর্ষণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার মৃত্যুর পরও একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভবত আগে লেখা ওই পোস্ট তার কোনো বন্ধু প্রকাশ করেছেন।

বিবিসি লিখেছে, হামলার পরের কিছু ভিডিও তারা যাচাই করে দেখেছে। তাতে দেখা যায়, নিহতদের মরদেহ বহন করছে লোকজন। কেউ কেউ চিৎকার করে মোহাম্মদ কুরেইকেহর নাম বলছেন। মিডিয়া ভেস্ট পরা এক ব্যক্তি আনাস আল-শরীফের মরদেহ শনাক্ত করেন।

আইডিএফের বিবৃতিতে আল-শরীফের বিরুদ্ধে ‘সাংবাদিক সেজে হামাসের পক্ষে কাজ করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তিনি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও আইডিএফ সদস্যদের ওপর রকেট হামলা চালাতে ‘সহায়তা’ করতেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আল-শরীফের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কোর্সের তালিকায়’ নামসহ সামরিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আগেও গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেছিল আইডিএফ।

“হামলার আগে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে যথাযথ অস্ত্র, আকাশপথে নজরদারি ও অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।”আল-শরীফের সুরক্ষার দাবিতে গত মাসে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক, জাতিসংঘ ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

আল জাজিরা বলেছিল, আইডিএফ ধারাবাহিকভাবে গাজার তাদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে। এটি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

আরো..