https://www.a1news24.com
১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩৯

গাজায় ইসরাইলি গণবিরোধী হামলায় ৬১ জন নিহত, নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ইইউয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন ও গণবিরোধী হামলায় আরও কমপক্ষে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সহায়তা প্রত্যাশী দু’জন নারীও রয়েছেন। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা সতর্ক করেছে, গাজার শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। মঙ্গলবার গাজার উত্তরে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার রাফার উত্তরে একটি বিতর্কিত সাহায্য বিতরণকেন্দ্রের কাছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত স্থানে দু’জন নারী নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ জানায়, জিএইচএফ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে মে মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত সাহায্য নিতে গিয়ে কমপক্ষে ৮৭৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজার উত্তরের ১৬টি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বলেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জাবালিয়া শহর। সেখানকার মানুষজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদক মুয়াথ আল-কাললুত জানান, মানুষ গাড়ি বা গাধার গাড়ি ব্যবহার করে এলাকা ছাড়ছে। সবাই অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। জ্বালানির অভাবে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। চারদিকে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক। গাজা শহরে একটি আশ্রয়শিবিরের তাঁবুতে বিমান হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানায় সিভিল ডিফেন্স।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা জানিয়েছে, চার মাস ধরে অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় পুষ্টিহীন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এ সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেসব শিশুকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রতি দশজনের একজন অপুষ্টিতে ভুগছে।

সংস্থাটি বলছে, গাজায় পুষ্টিহীনতা একটি পরিকল্পিত ও মানবসৃষ্ট সংকট। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজায় মানবিক সংকট না কমলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ১০টি প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে ইসরাইলকে শাস্তি দেয়া নয়, বরং গাজার পরিস্থিতি উন্নত করা। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, ইইউ-ইসরাইল সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত থাকবে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিতকরণ করা হবে, ইসরাইলি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে, ভিসামুক্ত ভ্রমণ বন্ধ করা হবে এবং জিএইচএফের সঙ্গে সহযোগিতায় আপত্তি জানানো হবে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছে, জিএইচএফের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন না। কারণ প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা ও নৈতিকতা উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া নিয়ে ইইউর দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানাচ্ছে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেন। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসপার ভেল্ডক্যাম্প বলেন, জনগণের চাপেই নতুন মানবিক চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এখন ২৭ সদস্য দেশের সম্মিলিত শক্তি ধরে রাখতে হবে। ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সামনে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস কাল্লামার্ড বলেন, ইইউ যদি প্রতিবার চুপ থাকে তাহলে তারা বরং অপরাধে সহযোগী হয়ে উঠছে। এটা শুধু রাজনৈতিক কাপুরুষতা নয়- এটা গণহত্যার দায় এড়ানোর বিপরীত বার্তা পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আলেক্সিস দেসওয়াফ বলেন, রাশিয়ার ক্ষেত্রে ইইউ যা করেছে ইসরাইলের ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে- নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণহত্যা থামানো এবং মানবিক সাহায্যর প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো..